শবে বরাতে একজন মুমিনের যা করণীয়!

ফাইল ছবি
শবে বরাত বলা হয় শাবান মাসের পনেরোতম রাতকে। এই রাতটি একজন মুমিনের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা তার অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন, জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, শবে বরাতে রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি, যাকে আমি ক্ষমা করে দেব? কোন রিজিকপ্রার্থী আছ কি, যাকে আমি রিজিক দান করব? সুবহে সাদিক পর্যন্ত এই আহ্বান অব্যাহত থাকে। তাই এই রাতকে ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে কাটানো অত্যন্ত ফজিলতের কাজ।
১) বরকতময় এই রাতে করণীয়
শবে বরাতে প্রথম যে কাজটি করা উচিত, তা হলো নিজের গুনাহের জন্য মন থেকে তওবা করা। আমরা সারা বছর জেনে বা না জেনে অসংখ্য ভুল করে থাকি। এই রাতে আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা, ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে দূরে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২) নফল নামাজ
এই রাতে নফল নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো নফল নামাজ বা নির্দিষ্ট কিছু রাকাত পড়া বাধ্যতামূলক মনে করা যাবে না। দুই রাকাত করে যতটুকু সম্ভব নামাজ পড়া উত্তম।
৩) কোরআন তিলাওয়াত
কোরআন তিলাওয়াত করতে পারেন। পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর কালাম। কোরআন তিলাওয়াত অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং ঈমানকে মজবুত করে।
৪) দোয়া
এই রাতে দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারেন। নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য, মৃত আত্মীয়দের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করতে পারেন। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, ঈমানের দৃঢ়তা, হালাল রিজিক এবং সুন্দর পরিণতির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেতে পারে।
৫) কবর জিয়ারত
শবে বরাতে মৃতদের জন্য দোয়া করাও একটি উত্তম আমল। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রাতে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করেছেন।
৬) নফল রোজা
পরদিন অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন। এবং প্রতি আরবি মাসের ১৫ তারিখেও তিনি রোজা রাখতেন। শবে বরাতের পরদিন রোজা রাখা সেই সুন্নাহরই একটি অংশ।
৭) বিরত থাকবেন যেসব থেকে
তবে শবে বরাতে কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকা জরুরি। আতশবাজি, ফানুস ও অনর্থক আড্ডা এই রাতের পবিত্রতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তেমনি বিদআতপূর্ণ আমল বা ভিত্তিহীন রসম-রেওয়াজ থেকেও দূরে থাকা উচিত।

