কখন, কত টাকার মালিক হলে কোরবানি ওয়াজিব?

ছবি: এআই
কোরবানির নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কোরবানির তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দিন থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ এই তিন দিনের মধ্যে কেউ নেসাব পরিমাণে সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২)
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন সব মুসলিম নর-নারী, যে ব্যক্তি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন ও ঋণের হিসাব বাদ দিয়ে বাকি সম্পদে নেসাব পরিমাণের মালিক হবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার দাম আসে ১৮৬,৭৯৫ টাকা। সুতরাং কোরবানির তিন দিনের মধ্যে যদি কেউ আবশ্যিক প্রয়োজন ও ঋণ হিসাব বাদ দিয়ে এই পরিমাণ টাকার মালিক হয় তাহলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে
আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
উল্লেখ্য যে, রূপার হিসাবের ক্ষেত্রে সনাতনি রুপার মূল্য হিসাব করতে হবে। আর ১৪ মে ২০২৬ এ বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর তথ্য মতে প্রতি ভরি বা তোলা রুপার দাম ৩৫৫৮ টাকা। সেই হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার দাম আসে ১৮৬,৭৯৫ টাকা। সুতরাং কোরবানির তিন দিনের মধ্যে যদি কেউ আবশ্যিক প্রয়োজন ও ঋণ হিসাব বাদ দিয়ে এই পরিমাণ টাকার মালিক হয় তাহলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। (আলমুহীতুল বুরহানি ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫)




