পবিত্র আশুরা
আশুরার দুই রোজায় এক বছরের গুনাহ মাফের সুসংবাদ

প্রতীকী ছবি
ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহাররম অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। এ মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ ইয়াওমে আশুরা, আল্লাহ তাআলার কাছে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। এ দিনের রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক সুসংবাদ দিয়েছেন, যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আনন্দের বিষয়।
হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
«صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ»
অর্থাৎ, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (সগিরা) গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)
চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী, এ বছর (১৪৪৮ হিজরি) আশুরা পালিত হবে ২৬ জুন, শুক্রবার (১০ মুহাররম)। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের থেকে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য শুধু ১০ মুহাররম নয়, এর সঙ্গে আরও একটি দিন মিলিয়ে রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
«لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ التَّاسِعَ»
অর্থাৎ, ‘আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্যই ৯ মুহাররমও রোজা রাখব।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)
এ কারণে আলেমগণ বলেছেন, আশুরার রোজা রাখার উত্তম পদ্ধতি হলো ৯ ও ১০ মুহাররম অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা।
সুতরাং এ বছর কেউ রোজা রাখতে চাইলে: ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) ও ২৬ জুন (শুক্রবার) অথবা ২৬ জুন (শুক্রবার) ও ২৭ জুন (শনিবার) এই দুই দিন রোজা রাখতে পারেন। আবার কেউ চাইলে এই টানা তিন দিনও রোজা রাখতে পারেন।
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, আশুরার রোজার সর্বোত্তম স্তর হলো ৯, ১০ ও ১১ মুহাররম তিন দিন রোজা রাখা। এর পরের স্তর হলো ৯ ও ১০ মুহাররম একসঙ্গে রোজা রাখা। (আল-মাজমু‘, ৬/৪৩২)
বছরে বহু নফল ইবাদতের সুযোগ আসে, কিন্তু পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের এমন সুসংবাদ আশুরার রোজার ক্ষেত্রেই বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাই আমরা নিজেরা রোজা রাখি, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আশুরার রোজা পালনের তাওফিক দান করুন এবং তাঁর অশেষ রহমতে আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক




