কোরআনের বাণী
ভুলের পর ফিরে আসার পথ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পবিত্র কোরআনের বাণী
সুরা : বাণী ইসরাঈল, আয়াত : ২৫
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়াবান আল্লাহর নামে
رَّبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِى نُفُوسِكُمْۚ إِن تَكُونُواْ صَـٰلِحِينَ فَإِنَّهُۥ كَانَ لِلْأَوَّٲبِينَ غَفُورًا
২৫. তোমাদের অন্তরে যা আছে, সে সম্পর্কে তোমাদের রবই অধিক জ্ঞাত। যদি তোমরা নেককার হও তবে তিনি তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের প্রতি অধিক ক্ষমাশীল।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
এই আয়াতটি মানুষের অন্তর্জগত সম্পর্কে ইসলামের এক গভীর সত্য তুলে ধরে। মানুষ বাহ্যিক আচরণ দেখে বিচার করে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরের গোপন অনুভূতি, নিয়ত, ইচ্ছা, দুর্বলতা, অনুশোচনা এবং সংশোধনের আকাঙ্ক্ষা পর্যন্ত জানেন। মানুষের কোনো কথা, কাজ বা চিন্তা তাঁর অগোচরে নয়।
আয়াতটি বিশেষভাবে পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের প্রসঙ্গে এসেছে। এর আগের আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার প্রতি সম্মান, নম্রতা ও দয়া প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। মানুষ কখনো ক্লান্তি, রাগ, অস্থিরতা বা অসাবধানতায় পিতা-মাতার সঙ্গে এমন আচরণ করে ফেলতে পারে, যা তার করা উচিত ছিল না। কিন্তু কোনো ভুল হয়ে গেলেই যদি সে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়, নিজেকে সংশোধন করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাহলে আল্লাহ তার জন্য ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত রাখেন।
আয়াতে ‘যদি তোমরা নেককার হও’ বলে বুঝানো হচ্ছে- যদি তোমরা অন্তরে ও কাজে নেককার হওয়ার চেষ্টা করো, অন্যায়কে আঁকড়ে না ধরে নিজেদের সংশোধনের চেষ্টা করো।
আর আয়াতে উল্লেখিত ‘আওয়াবীন’ হলো তারা, যারা বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। মানুষ ভুল করবে, এটাই তার স্বভাব; কিন্তু প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, সে ভুলের মধ্যে স্থায়ী হয় না। গুনাহ হলে অনুতপ্ত হয়, ক্ষমা চায় এবং আবার আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে আসে।
এ আয়াত আমাদের আশ্বস্ত করে যে, একটি সাময়িক ভুল মানুষের পুরো জীবনকে নির্ধারণ করে দেয় না, যদি তার অন্তরে সংশোধনের সত্যিকারের আকাঙ্ক্ষা থাকে। আল্লাহ শুধু ভুল দেখেন না, তিনি দেখেন ভুলের পর মানুষের হৃদয়ে কী পরিবর্তন ঘটল। সে কি অহংকারে নিজের অপরাধকে আঁকড়ে ধরল, নাকি বিনয়ের সঙ্গে রবের কাছে ফিরে এল?
তাই এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো: নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখা, ভুল হলে দ্রুত তাওবা করা এবং বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। মানুষের কাছে নিজের প্রকৃত অবস্থা গোপন রাখা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে নয়। আর মানুষের দৃষ্টিতে বড় ভুল করেও যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে তাওবা করে ফিরে আসে, আল্লাহর দরবারে তার জন্য রয়েছে ক্ষমা ও রহমতের অফুরন্ত সম্ভাবনা।
সংক্ষেপে আয়াতের শিক্ষা হলো- মানুষের বাহ্যিক রূপ নয়, আল্লাহর কাছে তার অন্তরের অবস্থা ও আন্তরিকতাই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল হওয়া মানবীয়, কিন্তু ভুলের পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই মুমিনের পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে সেইসব বান্দাকে ভালোবাসেন ও ক্ষমা করেন, যারা বারবার তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।




