কোরআনের বাণী
পাপী থেকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার উপায়
- যে তাওবা মানুষকে বদলে দেয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কোরআনুল কারিমের বার্তা
সুরা : নূর, আয়াত : ৫
بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
اِلَّا الَّذِیۡنَ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِكَ وَ اَصۡلَحُوۡا ۚ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
৫. তবে যারা এরপর তাওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে, তাহলে আল্লাহ তো অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
এই আয়াতটির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য আশার এক বিশাল দরজা খুলে দিয়েছেন। মানুষ ভুল করবে, পাপ করবে, কখনো প্রবৃত্তির তাড়নায় সীমালঙ্ঘন করবে, এটি মানবজাতির স্বাভাবিক দুর্বলতা। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হলো, এখানে পাপের পরও ফিরে আসার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় না। বরং আল্লাহ নিজেই তার বান্দাদের আহ্বান করেন তাওবার দিকে।
আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তবে যারা এরপর তাওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে...’ অর্থাৎ শুধু মুখে ‘আমি তাওবা করলাম’ বলাই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত তাওবার সঙ্গে থাকতে হবে আত্মশুদ্ধি ও সংশোধনের প্রচেষ্টা। একজন মানুষ যদি গুনাহ ছেড়ে আন্তরিক অনুতাপ নিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজের জীবনকে বদলানোর চেষ্টা করে, তাহলে অতীতের অন্ধকার তার জন্য চিরস্থায়ী হয়ে থাকে না।
ইসলামী স্কলারগণ বলেন, তাওবার তিনটি মূল স্তম্ভ রয়েছে। প্রথমত, কৃত পাপের জন্য হৃদয়ে গভীর অনুশোচনা সৃষ্টি হওয়া। দ্বিতীয়ত, সঙ্গে সঙ্গে সেই গুনাহ ত্যাগ করা। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে আর সেই পাপে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। আর যদি মানুষের হক নষ্ট করা হয়ে থাকে, তবে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চেয়ে নেওয়াও জরুরি। আয়াতে ‘নিজেদেরকে সংশোধন করে’ অংশটি এই বাস্তব পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করে।
এই আয়াত মানুষের অন্তরে হতাশা দূর করে। অনেক মানুষ মনে করে, এত পাপ করার পর আর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। কিন্তু কোরআনের শিক্ষা হলো, আল্লাহর রহমত মানুষের গুনাহের চেয়েও বড়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা যুমার, আয়াত : ৫৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবা করে, সে যেন এমন ব্যক্তি যার কোনো গুনাহই নেই।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৫০)
আয়াতের শেষাংশে আল্লাহর দুটি গুণ উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অতিশয় ক্ষমাশীল’ এবং ‘পরম দয়ালু’। এটি শুধু তথ্য নয়, বরং পাপী বান্দার জন্য সান্ত্বনা। আল্লাহ ক্ষমা করেন, আবার ক্ষমার পর বান্দাকে তাঁর রহমতের ছায়ায় আশ্রয়ও দেন। তাই একজন মুমিন কখনো পাপে নির্ভীক হবে না, আবার পাপের কারণে হতাশও হবে না। তার জীবন চলবে ভয় ও আশার মাঝামাঝি পথে।
এই আয়াত আমাদের শেখায়, মানুষের প্রকৃত মর্যাদা তার ভুল না করার মধ্যে নয়; বরং ভুলের পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা।




