অসুস্থের শিয়রে ভালোবাসার আলো

প্রতীকী ছবি
ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে ইবাদত শুধু মসজিদ বা নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধও ইবাদতের অংশ। অসুস্থ মানুষের খোঁজখবর নেওয়া বা তাকে দেখতে যাওয়া তেমনই একটি মহান আমল; যা মানুষের হৃদয়ে সান্ত্বনা জোগায় এবং আল্লাহর কাছে মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় অথবা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, ‘তুমি সৌভাগ্যবান, তোমার চলা কল্যাণময় হয়েছে এবং তুমি জান্নাতে একটি আবাস লাভ করেছ।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২০০৮)
বর্তমান সমাজের ব্যস্ত জীবনে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা বন্ধুবান্ধব অসুস্থ হলেও অনেক সময় আমরা একটি ফোন করা বা কয়েক মিনিটের জন্য খোঁজ নেওয়ার সুযোগও বের করতে পারি না। অথচ অসুস্থ মানুষের কাছে আন্তরিক উপস্থিতি অনেক সময় ওষুধের মতোই কাজ করে। তার মনে সাহস জাগে, একাকিত্ব কমে এবং সুস্থ হওয়ার প্রত্যয় বৃদ্ধি পায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও অসুস্থদের দেখতে যেতেন। এমনকি তিনি এক ইহুদি কিশোরের অসুস্থতার খবর শুনেও তাকে দেখতে গিয়েছিলেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৫৬)। এতে বোঝা যায়, অসুস্থের সেবা ও খোঁজখবর নেওয়া ইসলামের সার্বজনীন মানবিক শিক্ষার অংশ।
অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘কোনো মুসলিম যখন তার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫৬৮)। এই বর্ণনা অসুস্থকে দেখতে যাওয়ার ফজিলতকে আরও স্পষ্ট করে।
তবে অসুস্থকে দেখতে যাওয়ারও কিছু আদব রয়েছে। এমন সময় যাওয়া উচিত; যখন রোগী বা তার পরিবার বিব্রত হবে না। দীর্ঘ সময় বসে থেকে তাকে ক্লান্ত না করা, অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন না করা বা হতাশাজনক কথা না বলা উচিত। দেখতে যাওয়া ব্যাক্তির দায়িত্ব হচ্ছে; রোগীর জন্য দোয়া করা, ধৈর্যের কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে বাস্তব সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
বর্তমান সমাজে যখন মানুষ ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, তখন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। একটি আন্তরিক সাক্ষাৎ, একটি সান্ত্বনার বাক্য কিংবা একটি দোয়া হয়তো একজন রোগীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে।
তাই আসুন, অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়াকে কেবল সামাজিক সৌজন্য হিসেবে না দেখে এটিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মূল্যবান ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করি। কারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ছোট্ট আমলই হতে পারে জান্নাতে একটি ঘর লাভের সৌভাগ্যের কারণ।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
saifpas352@gmail.com




