হতাশ হওয়া মুমিনের স্বভাব নয়

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনে দুঃখ, সংকট ও অনিশ্চয়তা অবধারিত। কখনো প্রিয়জন হারানোর বেদনা, কখনো জীবিকার সংকট, কখনো অসুস্থতা বা ব্যর্থতা মানুষকে গভীর হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। এমন মুহূর্তে অনেকেই মনে করেন, যেন সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু একজন মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি অন্য রকম। তার বিশ্বাস, আল্লাহ বিপদ দিয়েছেন; তিনিই মুক্তির পথও সৃষ্টি করবেন।
পবিত্র কোরআন বারবার মানুষকে আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী থাকতে শিক্ষা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা যুমার, আয়াত : ৫৩)। এই আয়াত শুধূ পাপী মানুষের জন্য তাওবার আহ্বান নয়, বরং প্রতিটি বিপর্যস্ত হৃদয়ের জন্য আশার বাণী। যত বড় বিপদই আসুক, আল্লাহর দয়া তার চেয়ে অনেক বড়।
আল্লাহর নবী হজরত ইয়াকুব (আ.) তার সন্তানদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ছাড়া কেউ নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৭)। অর্থাৎ হতাশা ঈমানের শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। একজন মুমিন জানেন, মানুষের পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা কখনো ব্যর্থ হয় না।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনও ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরিপূর্ণ। তায়েফে অপমানিত হয়েছেন, প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, বহু কষ্ট সহ্য করেছেন। তবুও তিনি কখনো আল্লাহর সাহায্য থেকে নিরাশ হননি। বরং প্রতিটি সংকটে ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাআলঅ বলেছেন, ‘নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।’ (সুরা আল-ইনশিরহ, আয়াত : ৫-৬)।
তাই জীবনের কঠিন সময়ে হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ না করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই একজন মুমিনের পথ। আন্তরিক দোয়া, ইস্তিগফার, সালাত এবং ধৈর্যের মাধ্যমে হৃদয় প্রশান্ত হয়। অনেক সময় যে বিপদকে আমরা শেষ মনে করি, আল্লাহ সেটিকেই নতুন সম্ভাবনার সূচনা করে দেন।
মনে রাখতে হবে, হতাশা মানুষের শক্তি কেড়ে নেয়, কিন্তু আশা মানুষকে সামনে এগিয়ে চলার সাহস জোগায়। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা উচিত। কারণ, তিনি সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।
একজন মুমিন কখনো হতাশার অন্ধকারে হারিয়ে যান না। তিনি বিশ্বাস করেন, রাত যত দীর্ঘই হোক, আল্লাহর ইচ্ছায় ভোর একদিন অবশ্যই আসবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
saifpas352@gmail.com




