যে সহজ আমলে মিলে পূর্ণ একটি হজ ও উমরার সাওয়াব

প্রতীকী ছবি
হজ ও উমরা মুমিনের হৃদয়ের গভীরে লালিত এক পবিত্র আকাঙ্ক্ষার নাম। কাবার কালো গিলাফ, মসজিদুল হারামের প্রশান্তি, তাওয়াফের ঘূর্ণন আর মিনা-আরাফার স্মৃতি মুসলিম হৃদয়কে প্রতিনিয়ত টানে। কিন্তু প্রত্যেকের পক্ষে বারবার হজ বা উমরার সফরে যাওয়া সম্ভব হয় না। কারও সামর্থ্য নেই, কারও শারীরিক সক্ষমতা সীমিত, আবার কারও জন্য বাধা হয়ে ওঠে জীবনের ব্যস্ততা। অথচ আল্লাহর রাসুল (সা.) এমন একটি সহজ আমলের সুসংবাদ দিয়েছেন, যার প্রতিদান পূর্ণ হজ ও উমরার সাওয়াবের সমতুল্য।
হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
مَنْ صَلَّى الْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ تَامَّةٍ، تَامَّةٍ، تَامَّةٍ
‘যে ব্যক্তি জামাআতের সঙ্গে ফজর সালাত আদায় করল, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকল, অতঃপর দুই রাকাত সালাত আদায় করল, সে একটি পূর্ণ, পূর্ণ, পূর্ণ হজ ও উমরার সাওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৫৮৬)
হাদিসে তাম্মাহ বা ‘পূর্ণ, পূর্ণ, পূর্ণ’ শব্দের পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে নবীজি (সা.) এ আমলের প্রতিদানের পূর্ণতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে হাদিসে বর্ণিত এই ফজিলত প্রপ্তির জন্য তিনিট স্টেপ বাস্তবায়ন করতে হবে।
(এক) আমলের শুরু করতে হবে ফজরের জামাআত দিয়ে। রাতের নিস্তব্ধতা তখনো পুরোপুরি কাটেনি, অধিকাংশ মানুষ ঘুমের আবেশে। সেই মুহূর্তে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে জামাআতে দাঁড়ানো নিশ্চয় ঈমানের দৃঢ়তার পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের ওপর সবচেয়ে ভারী সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫৭; মুসলিম, হাদিস : ৬৫১)
(দুই) ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকতে হবে। কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ, তাহমিদ, তাহলিল, তাকবির, ইস্তিগফার ও দোয়া এ সময়কে সজীব করে তুলতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫২)
(তিন) সূর্যোদয়ের নিষিদ্ধ সময় অতিক্রান্ত হলে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করতে হবে। প্রচলিতভাবে এই সালাতকে ইশরাকের সালাত বলা হয়। সূর্যোদয়ের পরপরই নয়, বরং সূর্য কিছুটা ওপরে ওঠার পর তা আদায় করা নিরাপদ। (মুসলিম, হাদিস : ৮৩২)
তবে এ হাদিসের অর্থ এই নয় যে, এই আমল করলে ফরজ হজের দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। সওয়াবের দিক থেকে হজ-উমরার সমতুল্য প্রতিদান পাওয়া এবং ফরজ হজ আদায় করা এক বিষয় নয়। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ ফরজ।
ফজরের পরের নীরব সময়টি তাই মুমিনের জন্য এক মূল্যবান আমানত। দিনের কোলাহল শুরু হওয়ার আগে কিছু সময় আল্লাহর স্মরণে ডুবে থাকা, তারপর দুই রাকাত সালাত আদায় করা। এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিশাল প্রতিদানের সুসংবাদ। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক অপার অনুগ্রহ। প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতা, নিয়মিততার সংকল্প এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষা।
মহান আল্লাহ আমাদের সকলেকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক



