হজের সফরে ভুলভ্রান্তি
যেসব ভুলে অপূর্ণ থেকে যায় আপনার বহু সাধনার হজ (৪র্থ পর্ব)

সংগৃহীত ছবি
[চতুর্থ পর্ব]
হজ এমন এক অনন্য ইবাদত, যার নিয়ত করার মুহূর্তেই বান্দা আল্লাহতায়ালার কাছে সহজতা ও কবুলিয়তের জন্য দোয়া করে। এ থেকেই বোঝা যায়, অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় হজের আমল কতটা পরিশ্রমসাধ্য ও জটিল। তাই হজ আদায়ের জন্য শুধু মাসয়ালা জানা যথেষ্ট নয়; বরং এর সঠিক পদ্ধতি, সময়োপযোগী কৌশল এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তবে দেখা যায়, হজে অনেক ভুল হয় জ্ঞানের অভাবে নয়; বরং অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে। অথচ সামান্য সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিলে এসব ভুল সহজেই এড়িয়ে চলা সম্ভব। এজন্য নিচে হজ পালনের সময় সাধারণত যে ভুলগুলো হয়ে থাকে, সেগুলো আমরা একে একে ধারাবাহিকভাবে আগামীর সময়ের পাতায় পাঠকদের সামনে তুলে ধরব ইনশা আল্লাহ, যাতে হাজিরা সচেতন থেকে সঠিকভাবে হজ আদায় করতে পারেন।
আজ আমরা তুলে ধরব সাঈ সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তি
সাঈতে নির্দিষ্ট দোয়াকে জরুরি মনে করা
তাওয়াফের মতো এখানেও প্রতি সাঈতে কিছু নির্দিষ্ট দোয়াকে জরুরি মনে করা হয়। ফলে জামাতবদ্ধ হয়ে একজন বলতে থাকে আর বাকিরা তার সঙ্গে সমস্বরে পড়তে থাকে। এতে ঠিক তাওয়াফের মতোই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অথচ এখানেও নির্দিষ্ট দোয়া পড়া জরুরি নয়। কোরআন-হাদিসের উল্লিখিত যেকোনো দোয়াই পড়া যেতে পারে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদিস: ১৪৭১২, ১৪৭১৪; মানাসিক ১৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৬; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ.১২৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫০০)
সাফা পাহাড়ের দোয়া
অনেককে দেখা যায়, সাত চক্করেই সাফা পাহাড়ে এসে মাসনূন পড়েন:
‘ইন্নাচ্ছাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা‘আ-ইরিল্লাহ’
[অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত। (সুরা বাক্বারা, আয়াত: ১৫৮)]
অথচ সাঈ শুরু করার সময় শুধু প্রথমবারই সাফা পাহাড়ে চড়ে এ দোয়া পড়া সুন্নত। (সুনানে নাসাঈ ২/৩৩; মানাসিক ১৭১; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ.১২৯)
সাঈতে ইযতিবা করা
অনেকে মনে করেনে, তাওয়াফের মতো সাঈতেও ইযতিবা অর্থাৎ ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের ওপর চাদর পরিধান করা সুন্নত। তাই তারা সাঈতেও ইযতিবা করে থাকেন। অথচ সাঈতে ইযতিবা নেই। চাদর স্বাভাবিকভাবে পরে থাকতে হয়। (মানাসিক ১২৯; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ১৩০; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/২১৭; রদ্দুল মুহতার ২/৫০০)
নফল সাঈ
কারো কারো ধারণা, নফল তাওয়াফ করা যেমন ছওয়াবের কাজ তেমনিভাবে নফল সাঈ করাও ছওয়াবের কাজ। অথচ সাঈ শুধু উমরা ও হজের ক্ষেত্রেই ইবাদত। অন্য সময় সাফা মারওয়ার সাঈতে কোনো নেকি নেই। (সহীহ মুসলিম ১/৪১৪; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ১৩৫; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/৩১৭; রদ্দুল মুহতার ২/৫০২)
সামান্য ওজরে হুইলচেয়ারে সাঈ ও তাওয়াফ করা
অনেকে সামান্য ওজরে কিংবা ভিড়ের ভয়ে হেঁটে তাওয়াফ ও সাঈ না করে হুইলচেয়ারে করে থাকেন। সাধারণত ধনাঢ্য লোকদের মধ্যে এ রকম দেখা যায়। অথচ সামান্য অজুহাতে হুইলচেয়ারে তাওয়াফ ও সাঈ করা জায়েজ নয়। এভাবে তাওয়াফ বা সাঈ করলে তা আবার হেঁটে করা জরুরি। অন্যথায় দম ওয়াজিব হবে। তবে হাঁটতে অক্ষম কিংবা এমন রোগী যে হেঁটে তাওয়াফ বা সাঈ করলে তার অসুখ আরো বেড়ে যাবে; তাদের জন্য ‘হুইলচেয়ারে’ তাওয়াফ করা বা সাঈ করা জায়েজ রয়েছে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ১৩৩০৩, ১৩৩১১, ১৩৩১৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪৭; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/২৪৯-২৫০)
সাঈতে মহিলাদের দৌড়ানো
সবুজ দুই
পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে মধ্যম গতিতে দৌড়ানো পুরুষের জন্য মুস্তাহাব। কিন্তু কোনো
কোনো মহিলাও এ স্থান দৌড়ে পার হয়। অথচ মহিলাদের জন্য এখানে দৌড়ানো নিষেধ।
উৎস : আল-কাউসার, নভেম্বর ২০০৯ সংখ্যায় প্রকাশিত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া রচিত হজবিষয়ক ভুলভ্রান্তি প্রবন্ধ।
(…. চলবে ইনশা আল্লাহ)
যেসব ভুলে অপূর্ণ থেকে যায় আপনার বহু সাধনার হজ
যেসব ভুলে অপূর্ণ থেকে যায় আপনার বহু সাধনার হজ (২য় পর্ব)
যেসব ভুলে অপূর্ণ থেকে যায় আপনার বহু সাধনার হজ (৩য় পর্ব)



