হাদিসের কথা
মুমিনের বিপদও হতে পারে কল্যাণের পথপ্রদর্শক

প্রতীকী ছবি
মানুষ সাধারণত সুখকেই আল্লাহর সন্তুষ্টির নিদর্শন মনে করে, আর দুঃখকষ্টকে ভাবতে চায় অপছন্দের প্রতীক হিসেবে। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় এমন সরল নয়। প্রাত্যহিক জীবনে হঠাৎ নেমে আসা কষ্ট, অপ্রত্যাশিত বিপদ কিংবা দীর্ঘশ্বাসে ভরা দিনগুলো কখনো কখনো এক গভীর রহস্য বহন করে; যা বাহ্যিক চোখে ধরা পড়ে না, কিন্তু ঈমানের দৃষ্টিতে তা হয়ে ওঠে রহমতের দরজা। এই সূক্ষ্ম সত্যটিকেই এক সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী বাক্যে তুলে ধরেছেন প্রিয় নবী (সা.)।
আবু হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন, তাকে তিনি দুঃখকষ্টে পতিত করেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৫)
এই হাদিসটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল বদলে দেয়। এখানে দুঃখকে শাস্তি নয়, বরং কল্যাণের এক মাধ্যম হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ফাতহুল বারীতে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, মুমিন যখন বিপদে ধৈর্য ধারণ করে, তখন তার গুনাহগুলো ঝরে যায় এবং তার মর্যাদা আল্লাহর কাছে উচ্চতর হয়। অর্থাৎ দুঃখকষ্ট শুধু পরীক্ষা নয়, এটি পরিশুদ্ধির একটি প্রক্রিয়াও।
পবিত্র কোরআনেও এ সত্যের প্রতিধ্বনি
পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে…” (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫)
এই পরীক্ষার মধ্য দিয়েই মুমিনের অন্তর গড়ে ওঠে, তার ঈমান দৃঢ় হয় এবং সে
আল্লাহর প্রতি আরও নিবিড়ভাবে ফিরে আসে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য এক হাদিসে বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্টক্লেশ, রোগব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফোটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪১)
এই হাদিস আমাদের শেখায়, দুঃখকে কেবল দুর্ভাগ্য হিসেবে না দেখে, তা যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক বিশেষ দৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করি। যে বান্দাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাকে তিনি গড়ে তোলেন; কখনো সুখ দিয়ে, আবার কখনো কষ্ট দিয়ে। কষ্ট তখন আর নিছক বেদনা থাকে না; তা হয়ে ওঠে আত্মশুদ্ধির সিঁড়ি, ধৈর্যের পরীক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত নৈকট্যের সোপান।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সব ধরনের বিপদে সবর করার তাওফিক দান করুন।



