রাজপথে জাতীয়তাবাদী শক্তি সবসময় সক্রিয় থাকবে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: ভিডিও থেকে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেশব্যাপী নানা সহিংস কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজপথ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। রাজপথ কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এই রাজপথ জনগণের, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের। আর সেই রাজপথে জাতীয়তাবাদী শক্তি সবসময় সক্রিয় থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে শাহবাগে ছাত্রদল আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ছাত্রদল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় আগুন দেওয়া হচ্ছে, বাঁশ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হচ্ছে, সিএনজিতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, এসব ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের কেউ কেউ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের কাছে যে তথ্য দিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট টেলিফোন নম্বর থেকে তাদের কাছে নির্দেশ আসে। বলা হয়, নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বোমা বিস্ফোরণ করতে হবে, সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট একটি নম্বরে পাঠাতে হবে। এরপর তাদের অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়।
উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, এই পরিকল্পনার নেপথ্যে কারা রয়েছে? নির্দেশদাতা কে? যে টেলিফোন নম্বর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটি পার্শ্ববর্তী একটি দেশের নম্বর বলে দাবি করা হচ্ছে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, ষড়যন্ত্রের বিষয়টি কতটা গভীর হতে পারে।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তখন তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলছেন। রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি তিনি তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি সংকট, গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মূল্য পুনঃসমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার কখনোই জনগণকে অযথা কষ্ট দিতে চায় না।
যারা সন্ত্রাস করছে, যারা আগুন দিচ্ছে, যারা বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব। এসময় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, কিছুদিন ধরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্নভাবে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর তারা দেশের বাইরে পালিয়ে গিয়ে যেমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তেমনি দেশের ভেতরেও অনেকে আরেকটি অপশক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমরা এই দুই অপশক্তির বিরুদ্ধেই রাজনৈতিকভাবে লড়াই ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, যারা আজ সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ডকেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন তারা উপস্থিত ছিলেন না। গত সাত মাসে আমরা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ও অসহযোগিতার রাজনীতি দেখেছি। এমনকি রাজনীতির ভাষাকেও তারা অনেক সময় গালিগালাজের ভাষায় পরিণত করেছে।
এ্যানি বলেছেন, তাদের (বিরোধী দলের) কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও শালীনতার অভাব আমরা লক্ষ্য করেছি। এর মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে আমরা মনে করি। একই সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সুযোগ করে দিতে পারে।
এসময় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ অন্যান্য নেতারা।



