স্থায়ী কমিটির বৈঠক
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিলে উদ্বিগ্ন নয় বিএনপি
- অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার
- শূন্যপদ পূরণে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত
- ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে ১৮ সেপ্টেম্বর
- ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ঝটিকা মিছিল নিয়ে চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন নয় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। তবে দলটির নেতাদের অভিমত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এ অবস্থায় দেশে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ দিকে দলের কেন্দ্রীয়সহ সব কমিটির শূন্যপদ পূরণে নিচের পদধারী নেতাদের পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং দলের মনোনয়নপত্র নিতে চান— দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করবেন। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তোলনকৃত মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হবে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দলের মনোনয়ন বোর্ডের (জাতীয় স্থায়ী কমিটি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বললেন, ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধিতে সারা দেশে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাবে বিএনপি। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে মশারি সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়াও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নামকরা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তৈরি করা একটি প্রচারপত্র ঢাকাসহ সারাদেশে বিতরণ করা হবে।
‘বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রেডিও-টেলিভিশনে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান বারবার প্রচার করা হবে। সেই সঙ্গে স্কুল, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে আবর্জনা রাখার জন্য যাতে ডাস্টবিন বা বিনের ব্যবস্থা করা হয়, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দল থেকে প্রয়োজনে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু সচেতনতায় আরও যেসব উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, বিএনপির পক্ষ থেকে সেসব উদ্যোগও নেয়া হবে’—যোগ করলেন রিজভী।
বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলছিলেন, আমাদের দলের কমিটিগুলোর মধ্যে অনেকে মারা গেছেন, অনেকে নানা কারণে দলের মধ্যে নেই কিংবা বহিষ্কৃত হয়েছেন— সেই শূন্য পদগুলোতে তাদের ঠিক নিচের পদধারীদের যেন পদোন্নতি দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে দলের গঠনতন্ত্রের বিধানমতে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। এটি মূলত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যারা মারা গেছেন, সেই শূন্য পদগুলো পূরণ সম্পর্কিত। তবে বৈঠকে কাউন্সিলের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান রিজভী।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ গুলশানে মিছিল করেছে। এক সাংবাদিকের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে রিজভী বললেন, ‘আমাদের কোনো জাতীয় নেতা তো বলেননি যে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেব। এটা কারা বলেছিল, সেটা নিশ্চয় দেশবাসী ভুলে যায়নি। সুতরাং কে কার সঙ্গে আঁতাত করছে, সেটা জনগণ জানে। ফলে এসব কথা বলে কোনো লাভ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা বেআইনি সংগঠন, নিষিদ্ধ সংগঠন— আদালত কর্তৃক তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং বেআইনি যে সংগঠন, তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারে না। সরকারের কনসার্ন যে মিনিস্ট্রি অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দেখবে যে, কারা এর সঙ্গে (মিছিল, ঝটিকা মিছিল) জড়িত আছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবে। তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে ভূমিকা রেখেছেন, কিছু গ্রেপ্তারও হয়েছে।’
গত ১৫ আগস্ট দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল বিএনপি। তারা হলেন রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় একই স্থানে রাজশাহী বিভাগের নাটোর এবং খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।




