চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে মশাল মিছিল

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন।
আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কদম ফোয়ারা এলাকা ঘুরে পুনরায় পুরানা পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক ডা. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলনের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল, গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান কৌশলগত স্থাপনা। দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং দেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে দুর্বল করবে।
তারা বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় সম্পদ বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ দেশবাসী মেনে নেবে না। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও বন্দর রক্ষার প্রশ্নে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. আবু সাঈদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরসহ জাতীয় কৌশলগত সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাম্রাজ্যবাদী ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকেরা বন্দর রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তাদের লড়াইয়ে সংহতি জানাই। এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)-এর কোষাধ্যক্ষ কাজী রুহুল আমিন এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের অন্যতম নেতা অনন্ত ধামাই প্রমুখ।





