রাজনৈতিক সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা দেখছে বিএনপি

আবারও গরম রাজনীতির মাঠ। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা— সবখানেই চাপা উত্তেজনা। নতুন করে এই উত্তাপের কেন্দ্র শিশু রামিসা। ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার হওয়া এই শিশুর মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই আবেগঘন ঘটনাকেও এখন রাজনৈতিক টানাপড়েনের অংশ বানানোর অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, রামিসার হত্যাকাণ্ড নিছক কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি সমাজের ভয়াবহ অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। তারা দাবি করছেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাড়িতে গেছেন, পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন। কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক ক্ষোভকে উসকে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী পরিস্থিতিকে অন্যদিকে নিতে চাইছে।
এ নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, জামায়াতের অভিযোগ ও অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে মাঠে থেকেই। সংঘাত নয়, সভা-সেমিনার, আলোচনা আর প্রচারের মাধ্যমেই জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেশ জুড়ে ৩৫ লাখ প্রচারপত্র বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলছেন, ‘রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আমরা চাই। কিন্তু তা আইনের মাধ্যমেই হতে হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
আমিনুলের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ এবং সতর্কবার্তা। কারণ বিএনপির ধারণা, রামিসা হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
রামিসার হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও মাঠে নেমেছেন। রাজধানীতে জামায়াতের মহিলা বিভাগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ সমাবেশও করেছে তারা। তাদের দাবি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।
কিন্তু বিএনপি বিষয়টিকে দেখছে অন্য চোখে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান অভিযোগ করেছেন, ‘রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানা জামায়াতের কর্মী। অথচ এখন তারাই অপপ্রচার চালিয়ে দায় বিএনপির ওপর চাপাতে চাইছে।’
শুধু রামিসার ঘটনাই নয়, জুলাই জাতীয় সনদ আর গণভোট নিয়েও দুই দলের মধ্যে বিরোধ চলছে। জামায়াত অভিযোগ করছে, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে। কিন্তু বিএনপি বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত সেই সনদ তারা ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পালন করবে।
এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতেই বিএনপির প্রচারপত্রে তুলে ধরা হয়েছে গণভোটের চারটি প্রশ্ন এবং অবস্থান। প্রচারপত্রে দাবি করা হয়েছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে একটি মহল ধারাবাহিক অপপ্রচার চালাচ্ছে।
দলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়তেই আমরা তৃণমূল পর্যন্ত প্রচারপত্র পৌঁছে দিচ্ছি। মানুষ যেন সত্যটা জানতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’






