আব্দুল কাদের
চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে বেইমানি করছে সরকার

আব্দুল কাদের—ফাইল ছবি
শিক্ষার্থীদের জীবনের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি।
ওই পোস্টে আব্দুল কাদের লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি সরকারের এমন বেইমানি চিন্তাতীত। তারা ক্ষমতায় এসেই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর সরাসরি সুপারিশ ব্যবস্থা বাতিল করে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।’
আব্দুল কাদেরের অভিযোগ, এরপর সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান প্রকাশ্যেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কথা।
তিনি লেখেন, ‘লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ফজলুর রহমানের কাছে এডমিট কার্ড নিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং যেখানে ফোন করার প্রয়োজন সেখানে ফোন করে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করছে সরকার, অভিযোগ নাহিদের
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ ছাড়া গত বছর বিএনপির আরেক সংসদ সদস্যও গণমাধ্যমের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের চাকরি দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন আব্দুল কাদের।
আব্দুল কাদের বলেন, ‘ওই দুই সংসদ সদস্য নিজেদের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন; যারা বলেননি তাদের চিন্তাভাবনাও একই ধরনের।’ তার অভিযোগ, সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর পরিকল্পনাও এমন ‘দুরভিসন্ধি’ মাথায় রেখে করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের নামে বিরোধী দল ও মতের মানুষকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও অভ্যুত্থান হয়েছিল। সেখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার কথা থাকলেও এখন রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিবেচনা ঢুকে পড়ার অভিযোগকে তিনি ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আব্দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার বিপরীতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। সরাসরি শিক্ষার্থীবিরোধী কর্মপরিকল্পনা ও প্রতারণার খেসারত বিএনপি সরকারকে দিতে হবে এবং সেই মূল্য চড়া হবে।




