জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর জনগণের ভোটে আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বিএনপি— এ কথা উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি।
দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে বিএনপির অতীত, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দিনের বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারের কথাও বলেন তিনি।
বাণীতে তারেক রহমান বললেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়।’
তিনি বলেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশকে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থীরা দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলের প্রতিষ্ঠার পটভূমি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন।
তারেক রহমান জানান, এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, শুধু গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্রপ্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে।
তার মন্তব্য, দেশে যখনই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা জীবন দিয়েছেন।
দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের অবদানও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দলের চেয়ারম্যান।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভূমিকা
তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ যখনই নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।
বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে দলটি দেশবাসীর কাছে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।
বাণীর শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলে দলটি বিশ্বাস করে।
তারেক রহমান বলেন, একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রামই বিএনপির পরিচয় ও লক্ষ্য।







