কর্নেল অলি
ভারতের সঙ্গে বাস্তব সমস্যার সমাধান ছাড়া শুধু বন্ধুত্বের কথা যথেষ্ট নয়

সংগৃহীত ছবি
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে রক্ষা করা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে বাস্তব সমস্যার ন্যায্য সমাধান, সীমান্তে মানবিক আচরণ, বাণিজ্যে সমতা এবং পারস্পরিক মর্যাদা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। বাস্তব সমস্যাগুলো অমীমাংসিত রেখে শুধু বন্ধুত্বের কথা বললে তা যথেষ্ট নয়।’
আজ রবিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেছেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার-মনোনীত দীনেশ ত্রিবেদীর বেনাপোল আগমন এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান এলডিপি সভাপতি।
অলি আহমদ বলেছেন, ‘ভারতের হাইকমিশনার-মনোনীত দীনেশ ত্রিবেদী গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। এর ফলে তিনি বাংলাদেশের জন্য ভারতের হাইকমিশনার-মনোনীত হিসেবে বিবেচিত হলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করা আবশ্যক। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে পূর্ণাঙ্গ হাইকমিশনার বলা যায় না।’
তিনি বলেছেন, ‘এরপরও গত ১২ জুন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখা গেছে।’
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রাচার প্রধান, বন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এলডিপি প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, পরিচয়পত্র পেশের আগে এ ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ সরকারি সংবর্ধনা প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদেশি কূটনীতিকদের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন করা যেতে পারে, তবে তা কখনোই রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্নকে দুর্বল করে নয়।
তিনি আরও বলেছেন, ‘সীমান্তে উচ্চমাত্রার সরকারি সংবর্ধনা এবং মনোনীত কূটনীতিকের বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকাশ্যে আবেগঘন বক্তব্য দেওয়া কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও আন্তর্জাতিক রীতির সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত ও বাংলাদেশ একই আকাশ, একই বাতাস, একই বেদনা ভাগ করে’— এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেছেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তব সমস্যাগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে তা আপত্তিকর বলে মনে হতে পারে।’
তিনি বলেছেন, ‘সীমান্তে হয়রানি ও হামলার ঘটনা, ভিসা জটিলতা, বাণিজ্য বৈষম্য এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বিশেষ করে তিস্তা ইস্যু এখনো অমীমাংসিত। এসব বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি ছাড়া কেবল কথার মাধ্যমে বন্ধুত্বের দাবি যথাযথ বিবেচিত হতে পারে না।’
অলি আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতি ও সার্বভৌম মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো অনাবশ্যক রাষ্ট্রাচার কাম্য নয়। একই সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতেরও উচিত বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা এবং জনগণের অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান ও বিবেচনা প্রদর্শন করা।’


