দেশের কল্যাণে সরকার পরিচালনায় কিছু পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী : মঈন খান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের কল্যাণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার পরিচালনায় কিছু পরিবর্তন এনেছেন। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তারা।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় মঈন খানের সঙ্গে আরও চার নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা হলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রান্তিকালে জনগণের ভোটে দেশের হাল ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন তিনি। বাংলাদেশের সমস্যাগুলো সম্পর্কেও তিনি ওয়াকিবহাল আছেন। সেই সমস্যাগুলো দূর করে বাংলাদেশকে একটি গতিশীল রাষ্ট্র এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রথম ক্রান্তিকালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি দল ব্যর্থ হয়েছিল। তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।’
মন্ত্রী জানান, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করে। দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে মানুষের পাশে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে বিএনপি। ছাত্র-জনতা বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামার পর বিএনপিও তাদের পাশে ছিল। সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকার এসে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। এমন সুষ্ঠু নির্বাচন বিগত ২০ বছর বাংলাদেশে হয়নি। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে। জনগণ যাদের চেয়েছে, তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। সেই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমরা যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, এটি একটি প্রক্রিয়ার অংশ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চলছে এবং দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের মন্ত্রিসভায় যে রদবদল ও পরিবর্ধন হয়েছে, এর মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং অতীতের সেই বাংলাদেশে যেন আর ফিরে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাওয়া, সরকারের প্রত্যেক সদস্য তার নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন, আমরা সবাই সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করব।’
মিল্লাত বলেন, ‘আমাদের কিছুটা সময় লাগছে, কারণ দেশটি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। সেই ভঙ্গুর দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের ছয় মাস সময় দিয়েছেন। এই সময়ে আমরা পরিকল্পনা করেছি। এখন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাব।’’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের একটি ভিন্ন চিত্র দেখতে পাওয়া যাবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে সুখী ও স্বস্তিতে থাকতে পারে, সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ করতে চান। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চান তারা।







