বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি নেতৃবৃন্দ
জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সরকারের পরিণতি ভোগ করতেই হবে

ছবি: আগামীর সময়
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতারা বলেছেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় পুরানা পল্টন মোড়ে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে নেতারা এ কথা বলেন।
সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকি আক্তারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন প্রমুখ।
সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চার সদস্যের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে দেশবাসী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার দুই আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির খবর এসেছে এবং মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যর্থতা থাকলে তারও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সিদ্ধান্তে না গিয়ে সকল দিক খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উগ্র গোষ্ঠীর বাধা, পরবর্তী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ লাইনের মতো একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানও যদি হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়াও একই প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ। সংবাদ মাধ্যমে আগামী বছর থেকে নৌকাবাইচ বন্ধের সিদ্ধান্তের খবর এসেছে। নেতারা বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের নীতি হওয়া উচিত আইন ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা, কোনো গোষ্ঠীর চাপের কাছে সাংস্কৃতিক অধিকার সংকুচিত করা নয়।
সমাবেশ থেকে রংপুরের গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডসহ সকল হত্যা, ধর্ষণ ও অপরাধের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সকল দায়ী ব্যক্তির বিচারের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশের সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ ঐতিহ্যের আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নাগরিকের সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবি জানানো হয়।







