সরকারি বরাদ্দ কোনো দলের নয়, বঞ্চিত করা হচ্ছে বিরোধীদলীয় এমপিদের

প্রথমবারের মতো এনসিপির কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন জামায়াত আমির। ছবি: আগামীর সময়
এনসিপির বাংলা মোটরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রথমবারের মতো পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এবং বিগত নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াই করেছি। আমরা গঠনমূলক বিরোধীদল হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। সরকারের দুটি অঙ্গ— একটি সরকারি দল, আরেকটি বিরোধীদল। এ ছাড়া দেশ চলে না। বিরোধীদল ছাড়া গণতন্ত্র শূন্য।’
সংসদে বিরোধীদলের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সংসদে বিরোধীদল হিসেবে যেটুকু পাওনা, সেখানে আমরা বহুলাংশে বঞ্চিত হচ্ছি।’
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলে তাকে বরণ করে নেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. মাহমুদা মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতারা। এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও প্রচার কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান।
সংসদের বাইরেও বৈষম্য পাকাপোক্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘৩০০ আসনের ফান্ড বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি দলকে দেওয়া হয়েছে। এর ধারে কাছেও নেই বিরোধীদলের এমপিরা। সরকারি বরাদ্দ কোনো দলের না।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি দল নির্বাচনের আগে বলেছিল, বৈষম্য করবে না, দেশের সুষম উন্নয়নে হাত দেবে। উন্নয়ন নাগরিক অধিকার। একটি দেশের ভেতরে যখনই বৈষম্যের সৃষ্টি হয়, তখন সামাজিক অসন্তোষ দেখা দেয়। দেশ কখনো এগিয়ে যেতে পারবে না, যদি একটি স্থিতিশীল সমাজ গড়ে না ওঠে। এটি তৈরি করার মূল দায়িত্ব সরকারি দলের।’
সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের বিরোধীদলের এমপিদের আসনে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বসানো হয়েছে। একটি দেশ ও জাতি এভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।’
বর্তমান আন্দোলন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় এখন যে আন্দোলন করছি, তা জনগণের দাবি বাস্তবায়নের জন্য, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য। সরকার আমাদের রাজপথে ঠেলে দিয়েছে। আমরা এর সমাধান সংসদের ভেতরে চেয়েছিলাম। আমরা কথা দিচ্ছি, বাংলাদেশে আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেবো না।’
এনসিপি যেন বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে— এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান।






