নয় লাখ কোটির ‘ছায়া বাজেট’ দেবে জামায়াত

সংগৃহীত ছবি
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে নিজেদের বিকল্প অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরতে ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে দলটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ছায়া বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও অর্থনীতি-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত থাকবেন।
জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দলটি প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবে। এতে অর্থনীতির ১০টি প্রধান খাতকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট নীতিগত প্রস্তাবনা এবং বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। বাজেটের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুশাসনকে।
শিক্ষা খাতে অন্তত ৬ শতাংশ, কৃষিতে ১০ ও স্বাস্থ্য খাতে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ রেখে প্রস্তাবনা তুলে ধরবে জামায়াত। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় জামায়াতে ইসলামী ট্যাক্স কমিয়ে ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ব্যয়, বন্ধ কলকারখানা চালু করে ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়ার প্রস্তাব দেবে বিরোধী দল।
দলটির সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ থাকবে। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হবে।
এ ছাড়া কৃষি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ব্যয় বাড়ানো, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর সুপারিশও থাকবে বলে জানা গেছে। জোর দেওয়া হবে রাজস্ব খাতে করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন এবং দুর্নীতি কমিয়ে রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও।
দলটির নেতারা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সে লক্ষ্যেই সরকার ঘোষিত বাজেটের পাশাপাশি একটি বিকল্প অর্থনৈতিক রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ছায়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মানুষের জীবনমান সহজ করা ও সহনীয় পর্যায়ে আনার বিষয়টিকে। এ ছাড়া ব্যাংক খাত স্থিতিশীল করতে করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।




