২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট
সিগারেটের কাঁচামালে কমপক্ষে তিনশ শতাংশ শুল্ক, মদে বসবে নতুন মূল্য সংযোজন কর

প্রতীকী ছবি
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাড়তে পারে সিগারেট ও মদের দাম। স্বাস্থ্য ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
বর্তমানে সিগারেট খাতে প্রায় ৮৩ শতাংশ কর আরোপ রয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। এ অবস্থায় শুল্ক না বাড়িয়ে বাজারমূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে বাজেটে। সিগারেটের সুরক্ষা ও অবৈধ বাজার দমনে সমন্বিত নীতিমালার কথাও রয়েছে বিবেচনায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আসন্ন বাজেটে বাড়তে পারে সিগারেটের দাম। ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১৮৫ থেকে বাড়িয়ে করা হতে পারে ২১০ টাকা। এছাড়াও নেওয়া হয়েছে তামাক খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নজরদারি জোরদারের পরিকল্পনা।
অবৈধ সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি স্ট্যাম্পে এয়ার কোড যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নজরদারিতে রাখতে সিগারেট কারখানায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
সিগারেট পেপার ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রেও নেওয়া হতে পারে কঠোর পদক্ষেপ। বর্তমানে এ খাতে শুল্ক ও করের হার প্রায় আটান্ন দশমিক ছয় শতাংশ, যা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সূত্র বলছে, সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল তিনশ শতাংশ ও নিকোটিন আমদানিতে সাড়ে তিনশ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব হতে পারে। এমনকি নিকোটিন পাউচেও বসছে ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক।
এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপর নতুন করে মূল্য সংযোজন কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আগে এ প্রতিষ্ঠানের দেশীয় মদের ওপর কেবল আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য ছিল, কোনো ভ্যাট ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক প্রদান করত।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি লিটার মদের ওপর চারশ থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে কেরুর উৎপাদিত দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের মদের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




