জামালপুর এক্সপ্রেস নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘদিন ধরে রুট পরিবর্তনের কারণে জামালপুর এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত টাঙ্গাইলের কালিহাতি, ভুঞাপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। ট্রেনটি পুনরায় ইব্রাহিমাবাদ-টাঙ্গাইল রুটে চালুর দাবিতে স্থানীয়দের আন্দোলন ও দাবি রয়েছে অব্যাহত।
এ অবস্থায় ট্রেনটি দ্রুত আগের রুটে চালুর আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২০ সালে জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ী, তারাকান্দি ও ইব্রাহিমাবাদ হয়ে ঢাকাগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেনটিতে ১১০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) চেয়ার এবং ৫১০টি শোভন চেয়ারসহ মোট ৬২০টি আসনের ব্যবস্থা ছিল। চালুর পর জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলার মানুষের যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে।
তবে যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজের কারণে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ট্রেনটির রুট করা হয় পরিবর্তন। একই সময়ে যমুনা সেতু পূর্ব স্টেশনের ইয়ার্ড রিমডেলিং ও ট্র্যাক সুইচিং প্রকল্পের আওতায় ইব্রাহিমাবাদ থেকে ভুঞাপুর স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করা হয় স্থগিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুট পরিবর্তনের ফলে কালিহাতি, ভুঞাপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ সরাসরি ট্রেনসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে যাতায়াত সহজ হলেও বর্তমানে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের বাড়ছে দুর্ভোগ।
ময়মনসিংহের যাত্রী জুবায়ের আহমেদ মন্তব্য করেন, উন্নয়ন কাজের জন্য সাময়িকভাবে ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হলেও এখন অনেক কাজ শেষ হয়েছে। তাই দ্রুত জামালপুর এক্সপ্রেসকে পুনরায় ইব্রাহিমাবাদ ও টাঙ্গাইল রুটে চালু করা উচিত।
জামালপুরের বাসিন্দা কিবরিয়া সরকার দাবি করেন, সরকারের কাছে জোর দাবি, জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ী, তারাকান্দি ও টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় যে ট্রেনটি চালু ছিল, সেই ট্রেন পুনরায় আমাদের মাঝে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।
নিকরাইলের বাসিন্দা মাসুদ বলছিলেন, জামালপুর এক্সপ্রেস পুনরায় আগের রুটে চালু হলে টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবেন সরাসরি।
কালিহাতির আলীপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী তার ভাষ্যে বলেন, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন যখন চালু ছিল, তখন আমাদের এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক ভালো ছিল। বিশেষ করে এখানকার মানুষের সঙ্গে জামালপুর ও সরিষাবাড়ীর যে সম্পর্ক, সেটি আরও দৃঢ় হয়েছিল। ট্রেনটি বন্ধ থাকায় সেই যোগাযোগেও কিছুটা ভাটা পড়েছে। সরকারের কাছে আবারও দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত ট্রেনটি চালু করে জামালপুর ও টাঙ্গাইলের যোগাযোগ সহজ করা হোক।
ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইন্টারলকিং সিস্টেম চালু না হওয়ায় আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু করা যাচ্ছে না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকেও এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নন-ইন্টারলকিং ব্যবস্থায় ভুয়াপুর পর্যন্ত দুটি লোকাল ট্রেন চালু রয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেন কম্পিউটারনির্ভর ইন্টারলকিং ব্যবস্থা ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই দ্রুত কাজ শেষ করে ট্রেনটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উল্লেখ করেন, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুত সম্ভব টাঙ্গাইল রুটে চালুর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বললেন, জামালপুর এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যাত্রীরা দাবি জানিয়ে আসছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জামালপুর ও টাঙ্গাইলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। এ ব্যাপারে আমি কথা দিচ্ছি।




