Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় মতামত

কোরাল ট্রায়াঙ্গেল দিবস ২০২৬ : প্রবালপ্রাচীরের ভবিষ্যৎ ও আমাদের দায়িত্ব

ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার
agamir somoy
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:৩২
কোরাল ট্রায়াঙ্গেল দিবস ২০২৬ : প্রবালপ্রাচীরের ভবিষ্যৎ ও আমাদের দায়িত্ব

লেখক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

কোরাল ট্রায়াঙ্গেল বা প্রবাল ত্রিভুজ হলো পৃথিবীর সমুদ্রবক্ষের সবচেয়ে জীবন্ত, বৈচিত্র্যময় এবং পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশের মধ্যবর্তী এক বিশাল জলসীমাকে আবৃত করে রেখেছে। ভৌগোলিকভাবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাপুয়া নিউ গিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এবং পূর্ব তিমুর এই ছয়টি দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত প্রায় ৬০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের এই জলভাগকে তার ত্রিকোণাকার আকৃতির কারণে ‘কোরাল ট্রায়াঙ্গেল’ বা ‘সিটি৬’ (CT6) অঞ্চল বলা হয়। স্থলভাগের আমাজন রেইনফরেস্ট যেমন পৃথিবীর জলবায়ু ও অক্সিজেনের ভারসাম্য ধরে রাখতে বুক চিতিয়ে লড়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি পানির নিচের এই প্রবাল সাম্রাজ্য পুরো বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের হৃৎপিণ্ড হিসেবে কাজ করছে। এই অঞ্চলের অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক সম্পদ, অনন্য জীববৈচিত্র্য এবং মানবসভ্যতায় এর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রতি বছর ৯ই জুন বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয় ‘কোরাল ট্রায়াঙ্গেল দিবস’। ২০২৬ সালে এসে এই আন্তর্জাতিক দিবসটির গুরুত্ব পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ধাক্কা এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের ফলে এই অমূল্য সামুদ্রিক সম্পদ আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের কোরাল ট্রায়াঙ্গেল দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘Sustaining the Coral Triangle Ecosystem through Regional Cooperation’ অর্থাৎ আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে কোরাল ট্রায়াঙ্গেল ইকোসিস্টেমের স্থায়িত্ব রক্ষা করা। এই প্রতিপাদ্যটি কেবল একটি স্লোগান মাত্র নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক আহ্বান যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সমুদ্রের কোনো রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সীমানা নেই, এবং এই বিশাল জলজ অঞ্চলের প্রবাল প্রাচীর, মৎস্যসম্পদ ও সামুদ্রিক পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সমন্বিত পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

এই প্রবাল ত্রিভুজের গভীরতা ও এর বৈচিত্র্যের দিকে তাকালে যে কেউ বিস্মিত হতে বাধ্য, কারণ বিজ্ঞানীদের মতে এটি হলো সমগ্র পৃথিবীর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু বা এপিসেন্টার। সংখ্যার বিচারে বলতে গেলে, পৃথিবীতে যত প্রজাতির পাথুরে ও নরম প্রবাল বা কোরাল পাওয়া যায়, তার প্রায় ৭৬ শতাংশেরই (প্রায় ৬০৫টি প্রজাতি) আদি বাসস্থান হলো এই কোরাল ট্রায়াঙ্গেল, যা পৃথিবীর আর কোনো সাগরে বা মহাসাগরে এত বিপুল ঘনত্বের সাথে দেখা যায় না। শুধু প্রবালই নয়, এই প্রাচীরগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল জলজ নগরী, যেখানে বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীরে বসবাসকারী মোট মাছের প্রজাতির প্রায় ৩৭ শতাংশ বিচরণ করে, যার অর্থ হলো প্রায় ২,২২৮টিরও বেশি প্রজাতির রঙিন, বিচিত্র এবং বাণিজ্যিক মূল্যের মাছ এই সাগরে সাঁতার কেটে বেড়ায়। সামুদ্রিক কচ্ছপের জীবনচক্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীতে টিকে থাকা মোট সাত প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপের মধ্যে ছয়টি প্রজাতিরই ডিম পাড়া, প্রজনন এবং বেঁচে থাকার প্রধান নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো এই কোরাল ট্রায়াঙ্গেলের সমুদ্র সৈকত ও প্রবাল দ্বীপগুলো। এর পাশাপাশি এখানে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ম্যানগ্রোভ বা লবণাক্ত পানির বনাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ সিগ্রাস বা সামুদ্রিক ঘাসের তৃণভূমি, যা সাগরের পানিকে ফিল্টার করতে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এই বিপুল পরিমাণ জীবনের উপস্থিতির কারণেই সমুদ্রবিজ্ঞানীরা একে ভালোবেসে ‘নাসারি অব দ্য সিজ’ বা সমুদ্রের শিশুশালা বলে অভিহিত করেন, কারণ মহাসাগরের বহু দূর-দূরান্তের পরিযায়ী প্রাণী ও মাছ তাদের জীবনের প্রাথমিক সময়টি কাটানোর জন্য এবং বংশবৃদ্ধির জন্য এই নিরাপদ উষ্ণ পানির অঞ্চলেই ছুটে আসে।

এই বিশাল প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যকে টেকসই উপায়ে টিকিয়ে রাখার আন্তর্জাতিক প্রয়াস থেকেই মূলত কোরাল ট্রায়াঙ্গেল দিবসের উৎপত্তি হয়েছিল। ২০০৯ সালে এই অঞ্চলের ছয়টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা একত্রিত হয়ে সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, টেকসই মৎস্য চাষ নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যৌথভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ‘কোরাল ট্রায়াঙ্গেল ইনিশিয়েটিভ অন কোরাল রিফস, ফিশারিজ অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি’ (CTI-CFF) নামক একটি বহুপাক্ষিক ঐতিহাসিক জোট গঠন করেন। এই জোট গঠনের পর সামুদ্রিক পরিবেশের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করতে ২০১২ সালে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, প্রতি বছর বিশ্ব মহাসাগর দিবসের (৮ই জুন) ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ৯ই জুনকে ‘কোরাল ট্রায়াঙ্গেল দিবস’ হিসেবে উদযাপন করা হবে। সেই থেকে শুরু করে বিগত বছরগুলোতে এই দিবসের মাধ্যমে উপকূলীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, সাগরের তলদেশ থেকে পরিত্যক্ত জাল অপসারণ, যুব সমাজকে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং টেকসই সামুদ্রিক খাবারের প্রদর্শনী সহ নানা সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

মানবজীবনে এবং বিশেষ করে এই অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে কোরাল ট্রায়াঙ্গেলের অবদান এতই গভীর যে একে বাদ দিয়ে কোটি কোটি মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা কঠিন। এই ত্রিভুজ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১২ কোটিরও বেশি মানুষ তাদের প্রতিদিনের খাবারের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এবং সরাসরি জীবিকা নির্বাহের জন্য এই সমুদ্রের মৎস্য সম্পদের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। এখানকার স্থানীয় জেলেরা প্রথাগত পদ্ধতিতে মাছ ধরে তাদের পরিবারের জীবিকা সংস্থান করেন এবং এই সাগরে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ টুনা মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত হয়ে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি হয়, যা বৈশ্বিক মৎস্য বাণিজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থনৈতিকভাবে এর আরেকটি বিশাল দিক হলো ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্প, কারণ ইন্দোনেশিয়ার বালি ও রাজা আম্পাত, ফিলিপাইনের পালাওয়ান, কিংবা মালয়েশিয়ার সিপাডান দ্বীপের মতো বিশ্ববিখ্যাত ডাইভিং স্পটগুলো এই কোরাল ট্রায়াঙ্গেলের ভেতরেই অবস্থিত। প্রতি বছর লাখ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক, গবেষক এবং স্কুবা ডাইভার এই অঞ্চলের স্বচ্ছ নীল পানির নিচের রঙিন কোরাল ও সামুদ্রিক প্রাণীদের দেখতে ভিড় করেন, যা থেকে স্থানীয় হোটেল, পরিবহন ও গাইড ব্যবসা সহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আয় যুক্ত হয়। শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই নয়, এই প্রবাল প্রাচীরগুলো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় এক অদৃশ্য প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে কাজ করে, যা শক্তিশালী সামুদ্রিক ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস এবং টাইফুনের মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগকে প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়ে উপকূলের ভাঙন রোধ করে।

তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, মানবজাতির এত উপকার করা এই সামুদ্রিক স্বর্গরাজ্য আজ মানুষেরই তৈরি নানা সংকট এবং প্রকৃতির রুদ্ররূপের কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধ্বংসাত্মক হুমকির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রধান এবং সবচেয়ে মারাত্মক কারণ হলো বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং, যার ফলে বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত উত্তাপ সমুদ্রের পানি শোষণ করে নিচ্ছে এবং সাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানির এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি সহনশীলতার সীমা পার হয়ে গেলে ঘটে ‘কোরাল ব্লীচিং’ বা প্রবালের বিবর্ণতা রোগ, যেখানে প্রবালের কঙ্কালের ভেতরে বসবাসকারী এবং প্রবালকে খাদ্য ও রঙ জোগানো এককোষী শৈবালগুলো (Zooxanthellae) পানির উত্তাপে টিকতে না পেরে প্রবাল শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এর ফলে প্রবালগুলো তাদের উজ্জ্বল রঙ হারিয়ে সম্পূর্ণ সাদা ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন এই উষ্ণতা বজায় থাকলে তারা খাবার না পেয়ে অনাহারে মারা যায়, যা শেষ পর্যন্ত পুরো সামুদ্রিক খাদ্য শৃঙ্খলকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের অতি-লোভী মানসিকতার কারণে অপরিকল্পিত ও ক্ষতিকর মৎস্য শিকার পদ্ধতি, যেমন পানির নিচে ডিনামাইট বা শক্তিশালী বোমা ফাটিয়ে মাছ ধরা (Blast Fishing) এবং পাথরের ফাটলে লুকিয়ে থাকা মাছকে অবশ করার জন্য বিষাক্ত সায়ানাইড কেমিক্যাল স্প্রে করার মতো জঘন্য অপরাধের কারণে মুহূর্তে শত শত বছরের পুরনো প্রবাল প্রাচীর ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে প্লাস্টিক দূষণের মহাবিপদ, যেখানে কোটি কোটি ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক কাপ, পলিথিন ব্যাগ এবং বাণিজ্যিক মাছ ধরার ট্রলার থেকে ফেলে দেওয়া পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের জাল (Ghost Nets) সমুদ্রের স্রোতে ভেসে এসে প্রবালের গায়ে জড়িয়ে যাচ্ছে, যা প্রবালের সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দিয়ে তাদের বিভিন্ন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত করছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পৃথিবীর এই জলজ হৃৎপিণ্ডকে বাঁচাতে হলে আমাদের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস ও কার্বন নির্গমন কমানোর আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো, বিশেষ করে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি শিল্পবিপ্লবের আগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বিশ্বের উন্নত ও শিল্পপ্রধান দেশগুলোকে বাধ্য করতে হবে, কারণ কার্বন নিঃসরণ না কমলে সমুদ্রের উষ্ণায়ন রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, কোরাল ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলের দেশগুলোকে তাদের সমুদ্র সীমানার একটি বড় অংশকে ‘মেরিন প্রটেক্টড এরিয়া’ (MPA) বা সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, যেখানে সব ধরনের বাণিজ্যিক মাছ ধরা, খনিজ উত্তোলন এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে, যাতে সমুদ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ইকোসিস্টেম নিজে নিজেই পুনর্গঠিত হওয়ার পর্যাপ্ত সময় ও পরিবেশ পায়। তৃতীয়ত, উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে এবং স্থলভাগের নদী ও নর্দমাগুলোতে বিশেষ ফিল্টারিং ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে যাতে শহরের কোনো বর্জ্য বা রাসায়নিক সাগরে গিয়ে না মিশতে পারে। পরিশেষে, এই অঞ্চলে আগত পর্যটকদের মধ্যে ‘ইকো-ট্যুরিজম’ বা পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ধারণা জনপ্রিয় করতে হবে, যেখানে পর্যটকরা সাগরের নিচে কোনো প্রবাল স্পর্শ করবে না এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও নারীদেরকে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে এনে তাদের ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সংরক্ষণ আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।

২০২৬ সালের কোরাল ট্রায়াঙ্গেল দিবস আমাদের কেবল সমুদ্রের সৌন্দর্য উদযাপনের সুযোগ দেয় না, বরং এটি একটি সতর্কবার্তা। ‘Sustaining the Coral Triangle Ecosystem through Regional Cooperation’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমাদের বুঝতে হবে যে, পৃথিবীর এই প্রান্তের প্রবালগুলো যদি মারা যায়, তবে তার চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রভাব পুরো বিশ্বের জলবায়ু ও খাদ্য ব্যবস্থার ওপর পড়বে। সমুদ্র সুস্থ থাকলে আমরা সুস্থ থাকব। তাই আসুন, এই কোরাল ট্রায়াঙ্গেল দিবসে আমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে পরিবেশ সচেতন হই এবং সমুদ্রের এই রঙিন ও জীবন্ত বিস্ময়কে আগামী প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার করি।

লেখক: অধ্যাপক, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ ও ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং চেয়ারম্যান, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)

কোরাল ট্রায়াঙ্গেলপরিবেশ
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    মনোহরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, সঙ্গে তীব্র লোডশেডিং

    মনোহরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, সঙ্গে তীব্র লোডশেডিং

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৯

    সাংবাদিকদের মাইক্রোস্কোপের চোখে ত্রুটি খুঁজতে বললেন সেতুমন্ত্রী

    সাংবাদিকদের মাইক্রোস্কোপের চোখে ত্রুটি খুঁজতে বললেন সেতুমন্ত্রী

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:১২

    সংস্কারের পরও বদলায়নি জবির টিএসসি, হতাশ শিক্ষার্থীরা

    সংস্কারের পরও বদলায়নি জবির টিএসসি, হতাশ শিক্ষার্থীরা

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:১৫

    চলতি অর্থবছরে ৫ স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরে ৫ স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:১৬

    জাতীয় পতাকার বেআইনি ব্যবহার বন্ধে লিগ্যাল নোটিস

    জাতীয় পতাকার বেআইনি ব্যবহার বন্ধে লিগ্যাল নোটিস

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:১৮

    advertiseadvertise