যৌতুক নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ‘বহুবিবাহকারী’ লিটন

ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শাপলা কলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও মারধরের উঠেছে অভিযোগ। এ ঘটনায় যশোরের চৌগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নাজমুন নাহার।
তার অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে তিনি জীবননগর উপজেলার শাপলা কলিপাড়ার মৃত আনসার আলীর ছেলে লিটন মিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই লিটন বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ২৭ মে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, মারধরের পর লিটন নিজেই তাকে বাবার বাড়িতে রেখে আসেন। পরে সেখানে গিয়েও তাকে শারীরিকভাবে করা হয় লাঞ্ছিত ও মারধর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় লিটন তার আগের একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, এর আগে লিটন বিয়ে করেছেন একাধিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিটন মিয়ার একাধিক বিয়ের ঘটনা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পরই তিনি স্ত্রীদের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। দাবি পূরণ না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে গেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, লিটন প্রায় এক ডজনের বেশি বিয়ে করেছেন। নির্যাতনের কারণেই তার আগের স্ত্রীরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। মনে হয় তিনি বিয়ে করার নেশায় পড়ে গেছেন।
শাপলা কলিপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, লিটনের ভাইয়েরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় বারবার পার পেয়ে যান তিনি। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে লিটন মিয়া মোবাইল ফোনে বলছিলেন, আমি ছয় থেকে সাতটি বিয়ে করেছি। আগের স্ত্রীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো স্ত্রীকে আমি তালাক দিয়েছি, আবার কেউ কেউ আমাকে তালাক দিয়ে চলে গেছে।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা।




