একলা চলো নীতিতে জামায়াত-এনসিপি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের নতুন আলোচনার বিষয় এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে বিরোধী জোটের দুই প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আপাতত একক প্রস্তুতি নিলেও কিছু সিটি করপোরেশনে সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
এ দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছে জামায়াত ও এনসিপি। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থন যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে এই নির্বাচনকে কাজে লাগাতে চায় তারা। এর মধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের নেতা আবু সাদিক কায়েমের নাম প্রায় চূড়ান্ত। এ ছাড়া ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রামে শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমান, বরিশালে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, খুলনায় মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর আমির আবদুল জব্বারের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে এনসিপিও। দলটি এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে সামনে রেখে এগোচ্ছে তারা। এ ছাড়া কুমিল্লায় অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেটে অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে মো. মোবাশ্বের আলী এনসিপির হয়ে মেয়র পদে লড়বেন। এর পাশাপাশি প্রায় ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায়ও প্রাথমিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দলটি।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে। রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন, এই সিটিতে আবু সাদিক কায়েমকে নিয়ে অনড় অবস্থানে জামায়াত। অন্যদিকে এনসিপি একই পদে দলের মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সামনে রেখে এগোচ্ছে। ফলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগেই দুই দলের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। দলের অন্যতম অগ্রাধিকার এই সিটি। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে সারা দেশেই এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করতে পারে। এমনকি এ ইস্যুতে জামায়াত-এনসিপি জোটেও টানাপড়েন তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ দলীয় জোটে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আসন সমঝোতা হয়নি। তবে কয়েকটি সিটি করপোরেশনে সমঝোতার সুযোগ রাখা হলেও, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে অধিকাংশ দলই নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রতিটি দলের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্র। তাই জাতীয় নির্বাচনের মতো সর্বত্র জোটগত সমঝোতার প্রয়োজন নেই। তবে রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আলোচনা হতে পারে।
এনসিপির নেতারাও একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি মূল্যায়নের বড় সুযোগ। তাই আপাতত একক প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে জোটগত সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ দলের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। আপাতত সবাই নিজ নিজ প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘এখন আমরা একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে জোটের বিষয়ে আলোচনা হবে।’




