গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে যা বলছে সংবিধান

সংগৃহীত ছবি
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না।
সংবিধান বলছে, দল থেকে বহিষ্কার হলেই কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে।
তবে দল থেকে বহিষ্কার এবং স্বেচ্ছায় দলত্যাগ এক বিষয় নয়। সংবিধানে এ দুটি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই কোনো এমপিকে দল বহিষ্কার করলেও, তিনি নিজে পদত্যাগ না করলে বা সংবিধানের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন না করলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে বলে মত আইন বিশেষজ্ঞদের।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ গণমাধ্যমকে জানালেন, কোনো ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া বা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হওয়ার কারণে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কোনো বিধান সংবিধানে নেই।
‘দলীয় বহিষ্কারের কারণেও ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্যপদ বাতিল হবে না।’—যোগ করেন তিনি।
তবে কোনো ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি যদি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।
এ ক্ষেত্রে আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন উঠলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমকে জানালেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমে জেনেছেন। ঘটনাটি সত্য কি না, তা নিশ্চিত নন। গাজী নজরুল ষড়যন্ত্রের শিকারও হতে পারেন।
তিনি বললেন, যদি তিনি অপরাধী প্রমাণিত হন, তাহলে আদালত বিষয়টি দেখবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
তবে গাজী নজরুল নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে তার আসন শূন্য হবে। সে ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অতীতেও এ ধরনের নজির রয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকিকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়েছিল।
অন্যদিকে নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন।





