হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’র মোড়ক উন্মোচন

সংগৃহীত ছবি
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’র মোড়ক উন্মোচন করেছে ডাকসু। আজ মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হাদির ৪৪টি বক্তব্য নিয়ে বইটি সম্পাদনা করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দাক আলী ইবনে মোহাম্মদ। হাদির চিন্তা ও বক্তব্য সংরক্ষণ এবং তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই সংকলনটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘ওসমান হাদি বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার কথা বলতেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করতে সাংস্কৃতিক পরিচয় শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। এ কারণেই তিনি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা বলতেন।’
ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেছেন, ‘হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতেন। তার বিশ্বাস ছিল, জুলাই এখনো শেষ হয়নি এবং মানুষের লড়াই মূলত একটি সাংস্কৃতিক লড়াই।’
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় হাদির চিন্তা ও পরামর্শকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। তবে তার মৃত্যুর পর তিনি যে বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক চিন্তার রূপরেখা রেখে গেছেন, তা আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।’
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেছেন, ‘বিভিন্ন পডকাস্ট, সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সমাজ, রাষ্ট্র ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হাদির চিন্তার প্রতিফলন রয়েছে। এসব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বক্তব্য একত্র করেই ৪৪টি বক্তব্যের সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘ওসমান হাদির বক্তব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। হাদি পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। হাদির স্মৃতি ও চিন্তাধারা সংরক্ষণে আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ, ডা. মাহমুদা মিতু, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রমুখ।







