আওয়ামী লীগের শরিক বামরা নীরবতা ভাঙছে
পতনের ধাক্কা সামলে মাঠে ফিরছে আ. লীগের শরিক বামপন্থীরা
- চাঙ্গা হচ্ছে দলীয় কার্যালয়
- কর্মীদের মনোবল বাড়াতে জেলা সফর করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা
- আওয়ামী লীগের দায় নিতে নারাজ শরিকরা
- ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে ওঠার আশা
- জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানির দায় নিতে নারাজ

সংগৃহীত ছবি
একসময় দেশের রাজনীতিতে তাদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি। মন্ত্রিসভার টেবিল থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ, রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে রাজপথ— সবখানেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু পাশার দান উল্টে যায়। চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যায় দ্রুত। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এসব পরিবর্তনের ধাক্কায় আড়ালে চলে যায় আওয়ামী জোটের শরিক বামপন্থী ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলো। নিষিদ্ধ না হয়েও অনেকটা নিষিদ্ধের মতো হয়ে যায় তারা।
কিন্তু দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর এখন আবারও নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছে দলগুলো। প্রকাশ্যে বড় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ভেতরে ভেতরে যোগাযোগ বাড়ানো, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে— এটি কি শুধুই টিকে থাকার লড়াই, নাকি ভবিষ্যতের কোনো নতুন রাজনৈতিক মেরূকরণের প্রস্তুতি?
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ৫ আগস্টের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে তাদের জন্য রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ইনডোর কিংবা আউটডোর— কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার মতো পরিবেশ ছিল না। অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়, কেউ কারাগারে যান, আবার কেউ আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন। হামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে আসতে চাননি। ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে নেতারা বলছেন, প্রকাশ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দলীয় যোগাযোগ কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়নি। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয় হতে শুরু করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকেই নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া শুরু করেছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক বৈঠকও হচ্ছে।
ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ছিটকে পড়লেও হাল ছাড়তে রাজি নন জোটের বামপন্থী নেতারা। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) এবং অন্য শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠন টিকিয়ে রাখার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ইস্যু কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার ছায়ায় থাকার কারণে এসব দলের নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনীতির মাঠে নিজেদের উপস্থিতি টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদি তারা সক্রিয় হতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে তাদের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখা।
বিশ্লেষকরা এটিও মনে করছেন, এর পেছনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ সরাসরি রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় না থাকলেও, জোটের শরিক বামপন্থী দলগুলো ‘প্রগতিশীল রাজনীতি’র ব্যানারে নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে। ভবিষ্যতে তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগেও ভূমিকা রাখতে পারে।



