পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে : রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘুমহীন প্রহরীর মতো সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছেন।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত
আ স ম হান্নান শাহর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বললেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে অতীতের মতো এখনো নানা ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। গতকাল রবিবারও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত দুই সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নজরদারি রাখবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন।
বিগত আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশজুড়ে লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং মানুষের জায়গা-জমি ও সম্পদ দখলের যে অরাজকতা তৈরি হয়েছিল, বিএনপি সেই রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপির রাজনীতি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তৃণমূলের প্রতিটি নেতাকর্মী সরকারের অংশ। তাই তাদের আচরণে যেন ফ্যাসিবাদের কোনো ছাপ না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পদ-পদবির লোভ পরিহার করতে হবে। রাতারাতি বিত্তশালী হওয়া কিংবা ঠিকাদারি ব্যবসার লোভে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ডিজেল আমদানিতে সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে সরকার নিষ্ঠার সঙ্গে দিনরাত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সচল রাখতেও সরকার কাজ করছে।
প্রয়াত হান্নান শাহের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলছিলেন, অন্যায়, অবিচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাহসের প্রতীক ছিলেন তিনি। ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন হান্নান শাহ। কারারুদ্ধ অবস্থায়ও গোপন কোডে বার্তা পাঠিয়ে দলের আন্দোলন-সংগ্রাম সচল রাখার নির্দেশ দিতেন তিনি। তার অসীম সাহসিকতা ও ত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুল রহমান পেরা। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির সদস্যসচিব ও গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী প্রমুখ।



