হাসনাত-সাদিকের অক্সফোর্ড সফর ঘিরে বিতর্ক, কী ছিল দুই চিঠিতে?

অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সেমিনারে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাদিক কায়েম। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে ‘দ্য স্টুডেন্ট-লেড আপরাইজিং অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব পোস্ট-রেভল্যুশনারি বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্যানেল আলোচক ছিলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রভাব এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন আলোচনায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একটি পক্ষ দাবি করেছে, ‘এটি ছিল অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব অর্থায়নে আয়োজিত একটি কর্মসূচি।’ অন্য পক্ষের দাবি, ‘হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাদিক কায়েমকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল অক্সফোর্ড ইউনিয়ন।’
এমন বিতর্কের মধ্যেই আজ সোমবার সাদিক কায়েমকে পাঠানো অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণপত্র ও ভিসাসংক্রান্ত দুটি চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এসব চিঠিতে সাদিক কায়েমের যুক্তরাজ্য সফর, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং ভিসা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি আরওয়া হানিন এলরায়েসের স্বাক্ষরিত ভিসাসংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লব ও গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে সাদিক কায়েমকে যুক্তরাজ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটি অক্সফোর্ড ইউনিয়ন এবং অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে।
ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, পূর্ববর্তী ভিসা সাপোর্ট লেটারে অনুষ্ঠানটি ১১ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হলেও ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় সেটি পুনর্নির্ধারণ করে ১৪ জুন করা হয়েছে। এ কারণে সাদিক কায়েমকে নতুন নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে তার যুক্তরাজ্যে অবস্থানের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তথ্যের জন্য অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বানও জানানো হয়।
অন্যদিকে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির কনসালটেটিভ কমিটির চেয়ারম্যান অ্যারন জেলেকের স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়, মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে অধিক পরিচিত, তাকে যুক্তরাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লববিষয়ক অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের যৌথ প্যানেল আলোচনায় সম্মানিত বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটি মূলত গত বছরের শেষ দিকে হওয়ার কথা ছিল এবং সে সময় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটি থেকে একটি চিঠি জারি করা হয়, যা তার প্রাথমিক ভিসা আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় অনুষ্ঠানটির তারিখ পিছিয়ে যায়। পরে ভিসা অনুমোদিত হলেও তখন আর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তার পক্ষে যুক্তরাজ্যে যাওয়া সম্ভব হয়নি এবং পূর্ববর্তী ভিসার মেয়াদ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়ে যায়।
আমন্ত্রণপত্রে সাদিক কায়েমের পরিচয় তুলে ধরে বলা হয়, তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক ছিলেন এবং ইন্টারনেট বন্ধ ও কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন কর্মসূচি সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক এবং দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সাদিক কায়েমের অনুষ্ঠান সূচিতে রয়েছে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ। তার সফরকে অ্যাকাডেমিক ও শিক্ষামূলক হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি কোনো ধরনের চাকরিতে যুক্ত হবেন না এবং ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থানও করবেন না।
এ ছাড়া অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটি ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি যৌথভাবে তার অংশগ্রহণের আয়োজন ও সমন্বয় করবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সফর শেষে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুতে তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানানো হয়।




