শ্রমিকদের বেতন কাঠামো দ্রুত পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান— ফাইল ছবি
দেশের পোশাকশিল্পে চলমান অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে মালিক ও শ্রমিক— উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’
আজ বুধবার জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেছেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। এরই মধ্যে আন্দোলনের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেছেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিলে সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত যৌক্তিক সমাধানে আসা জরুরি।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, তবে শ্রমিক বাঁচলেই শিল্প বাঁচবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, এ খাতের ক্ষয়ক্ষতি তত বাড়বে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানীরা অস্থিরতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
শ্রমিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘নিজেদের কর্মস্থল ও প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী রয়েছে।’
একই সঙ্গে মালিকপক্ষের প্রতি শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান সহজ হবে।
গত ৫ দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় আন্দোলন করছে পোশাকশ্রমিকরা। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এরইড মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তারা সেই অনুযায়ী বেতন পাবেন।
তবে, সরকারের এ ঘোষণার পরও কয়েকটি জেলায় আজও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এসব বিক্ষোভের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।





