পল্টন হত্যাকাণ্ডের মামলায় খুনিদের বিচার চায় জামায়াত

ছবি: আগামীর সময়
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলা পুনরুজ্জীবিত করে শেখ হাসিনা, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ বুধবার হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে স্মরণ করে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে দলটির ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ শাখা। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের কাছে এই দাবি তুলে ধরেন সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এই ঘটনার মামলায় নথিপত্র গায়েব করা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে পল্টন হত্যাকাণ্ডের মামলাটি প্রত্যাহার করেছিল। মামলায় শেখ হাসিনার নামেও চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি এর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এই সেই পল্টন, এই সেই যুদ্ধক্ষেত্র। ২০ বছর আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী ১৪ দলের নেতাকর্মীরা এখানে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল। সেদিন এখানে রক্তের স্রোত প্রবাহিত হয়েছিল। একের পর এক নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের অকুতোভয় কর্মীদের সরানো যায়নি। তারা জীবন ও রক্ত দিয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করে নেতৃবৃন্দ ও মঞ্চকে রক্ষা করেছিলেন।’
জামায়াত সেক্রেটারির দাবি, সেদিন জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও ঢাকাবাসী রক্ত দিয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিলেন।
মিছিল শুরুর আগে ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করেন এবং তাদের জন্য দোয়াও করেন দলটির এই শীর্ষ নেতা।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার যদি সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের পক্ষে থাকে, তাহলে পল্টন হত্যাকাণ্ডের মামলার নথিপত্র অনুসন্ধান করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি মেনন, ইনুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে মামলার নথিপত্র উদ্ধার করে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করুন।’
তৎকালীন বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
২৮ অক্টোবরের ঘটনায় তৎকালীন বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সেদিন হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের নেতারা সাড়া পাননি। র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কেউ ঘটনাস্থলে আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরের কর্মসূচি নিয়ে নানা প্রশ্নের এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। কেন সেদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি একই জায়গায় হতে পারেনি এবং কেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, সেসব প্রশ্নের জবাব জাতি জানতে চায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দল ও সংগঠনগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সেদিনের ঘটনায় জড়িতদের রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তবে কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিনের সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবিতে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে জামায়াত।
‘লাশের ওপর নৃত্য করে কলঙ্কিত করেছে হামলাকারীরা’
পল্টনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। বুধবার বিকেলে মহাখালীর কলেরা হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। সভাপতিত্ব করেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে লগী-বৈঠা নিয়ে সন্ত্রাসীরা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হন। হামলাকারীরা লাশের ওপর নৃত্য করে বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে।শেখ হাসিনাকে খুনি ও মানবতাবিরোধী অপরাধী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের ঘটনাতেই তাদের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেদিন জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দলটির সভা বানচালের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে সভা সম্পন্ন হয়। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পল্টন এলাকায় মানবপ্রাচীর গড়ে তুলে হামলা প্রতিহত করেন। পরে রাস্তায় যাঁকে পেয়েছে, তার ওপরই হামলা চালানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত।





