বাংলাদেশের মতো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: রিজভী

রুহুল কবির রিজভী—ফাইল ছবি
বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে শতভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ভারতেও নির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ ওঠে। কিন্তু যখন ফলাফল হয়ে যায়, তখন সবাই মেনে নেয়।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি। ‘২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে প্রভাব’ শিরোনামে যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকার।
সভায় রিজভী বলেছেন, ‘সরকার ও বিরোধী দল প্রত্যেকে যদি ভাষা, শব্দ প্রয়োগ ও বাক্যবিন্যাসের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন, তাহলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংস মনোভাব গড়ে উঠবে না। গণতন্ত্রায়নের যত আইনকানুনই করা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না যদি মানসিকতার পরিবর্তন না হয়।’
তিনি জানালেন, বিভিন্ন অনৈতিক কাজে যুক্ত হওয়ায় চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে এবং গত কয়েক দিন পর্যন্ত অনেক নেতাকর্মীকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার, অব্যাহতি, শোকজসহ নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘এটিও একটা ইতিবাচক অগ্রগতি, আগে তো হয়নি। আগে কোনো রংবাজ বা মাসলম্যান বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙলে বা বিরোধী দলকে প্রতিহত করলে বাহবা দেওয়া হতো। এই প্রথমবার বিএনপি দলীয় কোনো মাস্তান এবং সন্ত্রাস, দখলের সঙ্গে যুক্ত কাউকে ক্ষমা করেনি। যখন একটা দল নিজের নেতাকর্মীদের শাসনের জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে, সেই দল তো রাইট ট্র্যাকে (সঠিক পথ) আছে।’
রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল অবশ্যই সরকারের তীব্র সমালোচনা করবে। কিন্তু সেই সমালোচনাগুলো হতে হবে গঠনমূলক, মিউচুয়ালি বেনিফিশিয়াল (উপকারি) এবং লুকিং ফরোয়ার্ড (সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার)। তাহলেই গণতন্ত্রের পথচলা মসৃণ হবে এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশ হবে। আর প্রথমে নিজের দিকে তাকিয়ে তারপর অন্যের দিকে তাকাতে হবে। সেটা হবে গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য শর্ত। কিন্তু যদি ক্রমান্বয়ে একতরফা হন...। প্রবাদ আছে— এক হাতে তালি বাজে না। ফলে দুই হাতের বিষয়ে খবর নিয়ে কথা বলতে হবে।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম, অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসিরউদ্দিন এলান ও তাসকিন ফাহমিনা, ইপিডির প্রকল্প পরিচালক অ্যানাসতাসিয়া এস উইবাওয়া প্রমুখ।





