জন দুর্ভোগ কমেনি, সংস্কার নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা নেই : মাসুদ রানা

সংগৃহীত ছবি
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, কৃষক-শ্রমিকের সংকট এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। রাজনৈতিক দলগুলোও সংস্কারের প্রশ্নে আন্তরিক নয়।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর উদ্যোগে দাবি সপ্তাহের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেছেন।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্যের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত, রাজু আহমেদ ও রাশেদ শাহরিয়ার। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব, পল্টন, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রচারপত্র বিলি করা হয়।
মাসুদ রানা বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। এর মধ্যে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ গণশুনানিতে বলা হয়েছিল, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় এবং সিস্টেম লস কমাতে পারলে বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। কিন্তু সরকার সে পথে হাঁটেনি।
বোরো মৌসুমে কৃষকদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার তাদের পাশে দাঁড়ায়নি অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেন, ফসল কাটার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার উৎপাদিত ফসল বিক্রির সময়ও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে মাসুদ রানা বললেন, গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ এখনও ঝুলে আছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এমনকি ঐকমত্য কমিশনে যেসব বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোরও বাস্তবায়ন হয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, দলটি সংস্কারের বিষয়ে সরব থাকলেও সেটি মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে। সংস্কার তাদের কাছে একটি রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে সংস্কার নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনা দেখা যায়নি।
নারী ও শিশু নির্যাতন ভয়াবহ আকার নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দিনের আলোয়, সকলের চোখের সামনে ফিল্মি হত্যাকাণ্ড প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার হচ্ছে না। বরং হয়রানি, মিথ্যা মামলা—এগুলোই দৃশ্যমান। এইসকল বিষয়ে সরকারের অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী আমরা দাবি সপ্তাহ পালন করছি। আমরা জনগণকে আমাদের দাবিগুলোর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।
সাত দফা দাবি
১. জ্বালানি তেল-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমাও। সর্বজনীন রেশনিং চালু করো।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করো।
৩. জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করো। মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করো।
৪. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করো। সংবিধানের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজসহ ৬টি মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করো।
৫. শ্রমিকের ন্যূনতম জাতীয় মজুরি নিশ্চিত করো। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চিনিকল-পাটকল চালু করো।
৬. কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করো। সার, বীজ, কীটনাশকে পর্যাপ্ত ভর্তুকি নিশ্চিত করো।
৭. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করো। নারী নির্যাতন, ধর্ষণকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করো।




