‘১০০ দিনে ৬২ ভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সরকারের’

সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতায় আসার মাত্র ১০০ দিন। সময়ের হিসাবে খুব বেশি নয়, কিন্তু সেই অল্প সময়েই সরকার দাবি করছে— রাষ্ট্রের বহু দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন এক পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক দমনপীড়ন, সংঘাত আর অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেরিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার এখন নিজেদের প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের হিসাব তুলে ধরছে মানুষের সামনে। সরকারের ভাষ্য, এ সময়েই মন্ত্রিসভার নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বড় অংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তি আর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দেখা যাচ্ছে নতুন গতি।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই ১০০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘বিগত সময়ে লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বিএনপি সরকার। মাত্র ১০০ দিনেই তার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা গেছে।’ তার দাবি, সরকার গঠনের পর থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার মোট ১০টি বৈঠকে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭টি এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। শতাংশের হিসাবে ৬২ ভাগ। অন্য সিদ্ধান্তগুলোও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
ড. মাহদী আমিন সরকারের এই কার্যক্রমকে ‘দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসনের বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। মাহদী আমিন বলেছেন, ‘গুম-খুন, হামলা-মামলা আর দমনপীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এখন মানবাধিকার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ড স্থাপনে কাজ করছে।’ তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, বাকস্বাধীনতার আড়ালে অপপ্রচার ও বিদ্বেষ ছড়ানোর রাজনীতি দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানালেন, বিদেশ থেকে হামের টিকা এনে গত তিন মাসে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অপতথ্য ও চরিত্র হনন ঠেকাতে আইনি সংস্কারের কথাও বলেছেন মাহদী আমিন। তিনি জানালেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া আলোচিত সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারকে সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সামনের দিনগুলোতে এ মামলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বিষয় এটি। এ বিষয়ে আমার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’
মাহদী আমিন দাবি করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলায় দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন। গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা। সরকারের রূপকল্পে দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করে, তরুণ ও নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সরকারের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার বৃক্ষপ্রেমী সরকার।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব আশরোফা ইমদাদ, নাজমুল হক খান ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।






