রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে বাসদের বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎ বিতরণ, রেল, পর্যটন মোটেল ও ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাসদ (মার্কসবাদী)।
আজ সোমবার বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাসদ (মার্কসবাদী)-র উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দলের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানার সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী ফোরামের সদস্য রাশেদ শাহরিয়ারের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত ও রাজু আহমেদ।
সমাবেশে বক্তারা বললেন, সরকার জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎ বিতরণ, রেল, পর্যটন মোটেলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা জনগণের সম্পদ বেসরকারি মালিকানায় তুলে দেওয়ার একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের সুলভ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকে আরও সংকটের মুখে ফেলবে।
বক্তারা বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনসেবা ক্রমশ মুনাফাখোর বেসরকারি পুঁজির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রেল ও ওষুধের মতো জনজীবনের অপরিহার্য খাতকে মুনাফার পণ্যে পরিণত করা হলে সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়বে এবং কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়বে।
বেসরকারিকরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বললেন, অতীতের বেসরকারিকরণের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, জনগণের সম্পদ বেসরকারি মালিকানায় তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা বেসরকারিকরণ নয়। দুর্নীতি, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে এগুলো জনস্বার্থে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করতে হবে।
একইভাবে ঔষধের ক্ষেত্রে বহুজাতিক ও দেশীয় ঔষধ কোম্পানির অতিরিক্ত মুনাফার স্বার্থ নয়, জনগণের সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
নেতারা জানান, জনগণের সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মুনাফার জন্য ইজারা দেওয়ার অধিকার সরকারের নেই। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রেল, পর্যটন ও শিল্পসহ কৌশলগত খাতকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে দেশীয় ও বিদেশি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার নীতি বন্ধ করতে হবে।
এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান তারা।




