মৌলবাদ ও মবসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ১০ দাবি, ২০ নভেম্বর লংমার্চ ঘোষণা

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ
মৌলবাদ, মবসন্ত্রাস, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ও সব ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও নাগরিক নিরাপত্তার ১০টি দাবি জানিয়েছে সামাজিক ঐক্যজোট সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ।
দাবি আদায়ে দেশের ৬৪ জেলায় স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, মশাল মিছিল এবং শহীদ মিনার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে জোটটি।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন মাহাথির মুহম্মদ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাসান সুরেশ্বরী নুরী দিপু। কর্মসূচি ঘোষণা করেন অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাসির উদ্দীন চিশতী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত সামাজিক ঐক্যজোট। সুন্নি-সুফি, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য নৃগোষ্ঠী, বাউল-ফকির, শিল্পী, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, বিচারক, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সব গণতন্ত্রকামী ও অসাম্প্রদায়িক নাগরিক এই জোটে এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন। নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পথে লড়াই করতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
জোটের দাবিগুলো হলো— এক. মবসন্ত্রাসের বিচার, ক্ষতিপূরণ ও সব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা; দুই. শিশু নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের বিচার; তিন. ধর্ম ও সংস্কৃতিচর্চায় নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া; চার. বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাসের জন্য হত্যা ও সহিংসতার বিচার; পাঁচ. ওরশে হয়রানিমূলক অনুমতির নিয়ম বাতিল; ছয়. ধর্মীয়-আধ্যাত্মিক প্রতীক ও লোকায়ত সংস্কৃতির সুরক্ষা; সাত. নারীর জীবন, শরীর, মর্যাদা ও স্বাধীনতার পূর্ণ নিরাপত্তা; আট. ঐতিহাসিক সুফি মাজার ও খানকার স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য রক্ষা; নয়. অর্পিত/শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল ও সম্পত্তি ফেরত; এবং দশ. সনাতনি অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের মুক্তি।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে দেশব্যাপী স্মারকলিপি প্রদান, অনশন ও লংমার্চের মতো কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন জোটের নেতারা।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩ থেকে ৫ নভেম্বর দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবর সরাসরি স্মারকলিপি, ১৩ নভেম্বর মানববন্ধন-বিক্ষোভ-শপথ ও মশাল মিছিল এবং ২০ নভেম্বর শহীদ মিনার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ লংমার্চ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও খ্রিস্টান প্রতিনিধি নির্মল রোজারিও, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির যুগ্ম সম্পাদক মো. ইব্রাহিম মিয়া, গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের সমন্বয়ক আব্দুল রতন কাফী, ইউনাইটেড তরিকত পার্টির নেতা মোস্তাক রাজাজি, আশ্বেকানে আউলিয়া ঐক্য পরিষদের আল্লামা হানিফ নুরী, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির (বিএসপি) ধর্মযাজক প্রণবানন্দ মহারাজ, সন্তোষ চন্দ্র দাস, এনপিএ নেতা অনিক রায় প্রমুখ।



