রিজভী
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে জনগণ সমর্থন দেবে

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী
স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হলেও প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের দোসররা এখনো রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘এসব ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা সমর্থন করবে।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নাজিরউদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অতীতের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বললেন, ‘স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এসব অনিয়ম ও অর্থ পাচারের সঙ্গে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসররা জড়িত।’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হুট করে এক দিনে তৈরি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন, জেলজুলুম সহ্য করেও খালেদা জিয়া যে আপসহীন মনোভাব দেখিয়ে গণতন্ত্রের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন এবং প্রবাসে থেকেও তারেক রহমান যে সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে দূরদর্শী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন—তারই চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে চব্বিশের জুলাই বিপ্লব।’
রিজভী বলছিলেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বিজয়ের পরও দেশে বারবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শহীদদের আত্মত্যাগ পরবর্তী প্রজন্মের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রেরণা জুগিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগের যে ইতিহাস রয়েছে, তা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও প্রেরণা জুগিয়েছে।’
সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং বন্ধ কারখানাগুলো সচল করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
তার ভাষ্য, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান প্রতিহত করা জরুরি। অপতৎপরতা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন— প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিমুদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব, খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।



