‘যথাযথ’ মূল্যায়নের দাবি জানাবেন মিত্ররা
মান ভাঙাতে শরিকদের নিয়ে ডিনারে বসছেন তারেক রহমান
- দুই প্রতিমন্ত্রীর বাইরে টেকনোক্র্যাট কোটায় আরও দু-একজন পূর্ণ মন্ত্রীর দাবি
- ধানের শীষ বা নিজস্ব প্রতীকে লড়ে যারা হেরেছেন, তারা যেতে চান সংসদের উচ্চকক্ষে
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও সরকারি ব্যাংকের পরিচালক পদেরও দাবি
- বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় করপোরেশন ও সরকারি সংস্থায় শীর্ষ পদেরও প্রত্যাশা
- মিত্রদের আগামী দিনের যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় পুরনো ঐক্য ধরে রাখার তাগিদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—ফাইল ছবি
আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তারা ছিলেন কাঁধে কাঁধ মেলানো সঙ্গী। কথা ছিল, একসঙ্গে করবেন নির্বাচন। সরকারও গড়বেন যৌথভাবে। সেই সরকার হবে ‘জাতীয় সরকার’। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি, গঠন করে সরকার। যারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি দুই শরিককে স্থান দিয়েছে সরকারে। তবে এটিকে জাতীয় সরকার মানতে নারাজ বেশিরভাগ মিত্র দল।
‘যথাযথ’ মূল্যায়নের আশায় তারা গত পাঁচ মাসে সরকার ও বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে নানাভাবে। শীর্ষ নেতাদের দরজায় নেড়েছেন কড়া। কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেখা মেলেনি। আর ‘কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ’ না পেয়ে শরিকদের মনে জমেছে একরাশ অভিমান।
মিত্রদের এই অভিমান এবার দূর করতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজেই নিয়েছেন বিশেষ উদ্যোগ।
চলতি সপ্তাহেই শরিক নেতাদের নিয়ে তিনি ডিনারে (নৈশভোজ) বসছেন বলে জানতে পেরেছে আগামীর সময়। এরই মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের তালিকা বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আগামী বুধ অথবা বৃহস্পতিবার এই ডিনারের আয়োজন হতে পারে। আজ-কালের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই পাঠানো হবে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জোট গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু নিশ্চিত করেছেন এই খবরের সত্যতা। বিএনপি থেকে তাদের এমন ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন।
শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের সাথীদের সঙ্গে বসবেন। মিত্রদের নিয়ে তিনি ডিনার করবেন। আশা করছি, চলতি সপ্তাহের বুধ অথবা বৃহস্পতিবার ডিনারসহ এই বৈঠক হবে। বিএনপি থেকে আমাদেরকে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে চারটি জোটসহ নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল ৪২টি রাজনৈতিক দল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এর মধ্যে ১১টি দলকে ১৬টি আসন ছেড়েছিল বিএনপি। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর যুগপতের শরিকদের মধ্য থেকে দুই নেতাকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করেছে দলটি। তবে মিত্রদের মধ্যে ৩১টি দল এখন পর্যন্ত পায়নি কিছুই। জেলা পরিষদের প্রশাসক কিংবা সংরক্ষিত নারী আসনেও শরিকদের কেউ মূল্যায়িত না হওয়ায় এ হতাশা বেড়েছে আরও।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হতে যাওয়া বৈঠকে তাদের ‘যথাযথ’ মূল্যায়নের দাবি জানাবেন শরিক দলের নেতারা। ‘বঞ্চিত’ দলগুলোর নেতারা এখন ওই দুই প্রতিমন্ত্রীর বাইরে অন্য শরিকদের মধ্য থেকে ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী’ হিসেবে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান আরও দু-একজনকে। বাকিদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়নের প্রত্যাশা তাদের। আর ধানের শীষ কিংবা বিএনপির সমর্থনে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করে যারা পরাজিত হয়েছেন, তারা যেতে চান সংসদের উচ্চকক্ষে। এর বাইরে যোগ্যতা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, রাষ্ট্রদূত, সরকারি ব্যাংকের পরিচালক, বিভিন্ন করপোরেশন ও সরকারি সংস্থায় পদায়ন চান মিত্ররা।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ১২-দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার আক্ষেপ করে আগামীর সময়কে বললেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার হটানোর আন্দোলনে থাকা শরিকদের নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাবনা ও সম্ভাবনা ছিল, সেটি সত্যি সত্যি বাস্তবায়িত হয়নি— যদিও কাউকে কাউকে সরকারে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারণে হয়তো এটা বিলম্বিত হয়ে থাকতে পারে। আমরা আশা করব, অতিসত্বর যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে।’
তার মতে, আগামীতে যেকোনো সংকট মোকাবিলার জন্য অতীতের মতো জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
প্রত্যাশা অনুযায়ী মূল্যায়িত না হওয়ার সুর ১২-দলীয় জোট শরিক ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমানের কণ্ঠে। বললেন, ‘শরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন জুড়ে মাঠে ছিল। প্রত্যাশা ছিল, বিএনপি সরকার গঠন করলে মিত্রদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। কিন্তু অধিকাংশ দল এখন পর্যন্ত কিছুই পায়নি, এমনকি তারা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎও পায়নি।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে শরিক দলের নেতারা তাদের মূল্যায়নের দাবি তুলবেন বলে জানালেন লেবার পার্টি চেয়ারম্যান।
গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না কথা বললেন আরও স্পষ্ট ভাষায়। বিএনপি তার মিত্রদের দেওয়া কথা রাখেনি দাবি করে তিনি আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘বিএনপি বলেছিল জাতীয় সরকার গঠন করবে। কিন্তু সেটার কোনো লক্ষণ নেই। একটা-দুইটা প্রতিমন্ত্রী বানানোয় জাতীয় সরকার হয়ে যায় না। সেটাতে এ কথা প্রমাণিত হয় না যে, তারা তাদের জাতীয় সরকারের ওয়াদা রেখেছে। এটি কোনো জাতীয় সরকার না।’






