গারোদের কণ্ঠস্বর হতে চান শুভ্রা পান্ত্রা

শুভ্রা পান্ত্রা
ভারতের গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ছোট নদী বোরাঘাট, বরাকজোড়া আর গুমরিয়ার বিধৌত আর ছোট ছোট পাহাড়ঘেরা জনপদ গাজিরভিটা। ময়মনসিংহের হালুঘাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা এ ইউনিয়নটি এখনো পিছিয়ে দেশের অনেক এলাকার তুলনায়। বিশেষ করে গারো নৃগোষ্ঠীর মানুষজন পিছিয়ে আছে আরও বেশি। সেই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে উঠে এসেছেন শুভ্রা পান্ত্রা।
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে নিয়েছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। চাইলেই আইন পেশায় থিতু হয়ে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে কাটাতে পারতেন সুখের দিন। কিন্তু ভিন্ন কিছুর ভাবনায় তিনি সক্রিয় হয়েছেন রাজনীতিতে। জাতীয় সংসদের সদস্য হয়ে প্রান্তিক মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প শোনাতে চান দেশবাসীকে।
৩৮ বছর বয়সী শুভ্রা পান্ত্রা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি থেকে। আশা করছেন, দলের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। রবিবার আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপে জানালেন স্থানীয়রাও কেন তাকে সংসদে দেখতে চান সেই গল্পও। শোনালেন বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার কথা।
শুভ্রা জানালেন, তার রাজনীতিতে আসা অনেকটাই পারিবারিক কারণে। বাবা নিখিল রেমা যুক্ত ছিলেন বিএনপির রাজনীতিতে। বাবার হাত ধরেই ছোটবেলা থেকে যেতেন নানা অনুষ্ঠানে। করতেন কবিতা আবৃতি, উপস্থাপনা আর গান। শুভ্রার ভাষ্য, ছোটবেলার সেই সব কাজই তাকে সহায়তা করেছে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততায়। এ ছাড়া নানা সময়ে তার জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার ঘটনাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলেও মত শুভ্রার।
নিজের যোগ্যতাতেই শুভ্রা এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান। শুভ্রার দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের প্রচারকাজে নেমে আরও পরিণত হয়েছে তার রাজনৈতিক বোঝাপড়া। নিজের চোখে দেখেছেন অন্য এলাকার তুলনায় তার এলাকার পিছিয়ে থাকার চিত্র। তারপরই তার ইচ্ছে হয় জনপ্রতিনিধি হওয়ার।
শুভ্রা পান্ত্রা এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছেন দলের মনোনয়ন । কেন জনপ্রতিনিধি হতে চান?— এমন প্রশ্নের জবাবে শুভ্রা শোনালেন আরও প্রত্যয়ের কথা, দায়বদ্ধতার কথা, ‘আসলে সেই ছোটবেলা থেকেই মানুষের সঙ্গে মিশেছি। আমাকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা আছে তাদের। তাদের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকে, সততার মধ্যে থেকে জনসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই আমি চাই জনপ্রতিনিধি হতে।’ তার বিশ্বাস, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্য থেকে এ পদে দল বিবেচনা করবে তাকে।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল, বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
এবার বিএনপি ও তার জোট ৩৬টি, জামায়াত ও তার জোট ১৩টি, ছয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জোট পাবে একটি সংরক্ষিত নারী আসন।

