সিফাতকে ছেড়ে না দিলে পচা শামুকে কাটবে পা, হুঁশিয়ারি সরকারকে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ছবি: জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক থেকে নেওয়া
গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার তরুণ সিফাত আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। অন্যথায় ‘কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না’ বলে সতর্ক করেছেন এ রাজনীতিবিদ।
আজ শনিবার সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে গাজীপুর থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় সিফাত আব্দুল্লাহকে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে।
জামায়াতের আমির বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় নিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। ওকে ছেড়ে দেন। ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন।
ছেড়ে না দিলে বিপদও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিরোধী দলের এ নেতা। শফিকুর বলেছেন, যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিকে একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।
জামায়াতের আমির বললেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা দিয়ে নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।’
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে শফিকুর বললেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। তার সঙ্গে সপ্তম দফা হবে, কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।’
জামায়াত আমিরের অভিযোগ, জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই। কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে। কারেন্টের ভূতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না।
উদ্বোধনী সভায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতারা ছিলেন।





