রিজভী
কারো প্রভাব না দেখে মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে

রুহুল কবির রিজভী
কোন অপরাধী চক্রের কতটা প্রভাব আছে তা না দেখে মানব পাচারকারীদের দমন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এক সেমিনারে রিজভী এসব কথা বলেন।
'বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬' উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে আইনের শাসন ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলছিলেন, ‘মানব পাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন প্রণয়ন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজে আইনের শাসন থাকলে তখন অপরাধী চক্র গড়ে উঠত না। এই অপরাধী চক্র সমাজেরই অংশ এবং সমাজের মানুষরাই এসব চক্র গড়ে তুলছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে এসব চক্র দমন করা সম্ভব হত।’
‘আইনের শাসন না থাকার কারণে তৃণমূলে নানা ধরনের অবিচার ও নিপীড়ন হয়। অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া জানাতে পারেন না। এ কারণে তারা নিগৃহীত হন’, যোগ করেন তিনি।
রিজভী মন্তব্য করেন, ‘অনেকে কিছু না বুঝে ফড়িয়া ও প্রতারক চক্রের কাছে সামান্য জমি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তারা মানব পাচারের শিকার হয়। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর পথেই অথবা গন্তব্যে পৌঁছে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাদের আর কোনো সহায়-সম্বল থাকে না।’
মানব পাচারকে দাসপ্রথার একটি অঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, মানব পাচারের রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। এর অন্যতম মূল কারণ রাষ্ট্রহীনতা। আরেকটি কারণ সীমিত সুযোগ। এর সঙ্গে বাস্তুচ্যুতিও মানব পাচারের অন্যতম কারণ।
তিনি জানান, বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে সন্তান হওয়ার পর অনেকেই স্কুলে যেতে পারে না। নিজের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার বোধ তৈরি হয় না। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে না পারায় এসব মানুষই মানব পাচারের বেশি শিকার হয়। সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। মানবপাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, একটি পরিবারের একজন মানুষ পাচার হওয়া মানে সেই মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও সেই সমাজের সংস্কৃতিও পাচার হওয়া। তাই যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে।
‘বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে‘— যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক রতন মালোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কথক বিশ্বাস জয়ের নেতৃত্বে মানব পাচার বিষয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা সঙ্গীত পরিবেশনা করেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শিল্পী এস এম রকিবুল হাসান বাঁশি বাজিয়ে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দুর্দশার চিত্র ফুটিয়ে তোলেন সুরে।








