সামনে এখন তিন চ্যালেঞ্জ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে বিএনপি। তবে দলটির নেতারা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোয় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কার্যকর করা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা।
বিএনপি নেতাদের মতে, জনগণকে সম্পৃক্ত করেই সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। যদিও সরকার এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা বাড়ছে। বিরোধী দল এরই মধ্যে এই ইস্যুতে রাজপথে কর্মসূচিও পালন করেছে। ফলে আগামী দিনগুলোয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় সরকার, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।
এ ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা ধরে রাখাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো বিষয়গুলোও সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অর্জনকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, 'সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ প্রতিশ্রুত নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকারের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, তারা আজ সরকারের কর্মকাণ্ডে খুশি। সামনের দিনেও আমাদের এই জনতুষ্টি ধরে রাখতে হবে।'
'ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। বর্তমান সরকার শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বিদ্যমান এই দুর্নীতিকে এক দিনে নির্মূল করা সম্ভব নয়'— যোগ করেন তিনি।
সামনের দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সেলিমা রহমান বলেছেন, 'শিশু নির্যাতন ও নারী নির্যাতন বন্ধ করা, মব পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কাজ করতে হবে।'
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বললেন, 'নানামুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিএনপি সরকার যাত্রা শুরু করেছে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। সামনের দিনগুলোয় সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা।'
তিনি আরও বললেন, 'এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে গত ১০০ দিনে আমরা প্রাথমিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছি। অনেক কর্মসূচি এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।'
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, 'বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য দক্ষ, যোগ্য ও প্রশিক্ষিত প্রশাসন অপরিহার্য। বিশেষ করে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বহুমুখী সংকট মাথায় রেখেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের সহযোগিতায় এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব হবে।'






