রুহুল কবির রিজভী
গুমের বিরুদ্ধে শক্ত আইন চায় জনগণ

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কথা বলছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। ছবি: আগামীর সময়।
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভারের সন্ধানের দাবিতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হলো নয়াপল্টনে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে কথা বললেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। জানালেন, গুম আইনের ফাঁকফোকর ও ঘাটতি পূরণ করে একটি শক্তিশালী আইন চায় দেশের জনগণ।
রিজভী উল্লেখ করেন, একটি দুঃসময় অতিক্রম করে এখন সুসময়ের দিকে এগোচ্ছে দেশ। তবে শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং পুরো জাতির জন্য নিশ্চিত করতে হবে এই সুসময়। তার মতে, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এখনও বিদ্যমান। তবুও এখন অন্তত গ্রেপ্তার, গুম বা ক্রসফায়ারের ভয় কমেছে, এটাই সুসময়ের লক্ষণ’।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার দাবি, প্রকৃত সুসময় তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন নিশ্চিত হবে আইনের শাসন। যখন কোনও সাধারণ মানুষ অন্যায়ের শিকার হলে ন্যায়বিচার পাবে আদালতে। ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করাকেও সুসময়ের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা।
গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে রয়েছে অনেক ঘাটতি ও ফাঁকফোকর। দেশের জনগণ চায় সে ফাঁকফোকর ঘাটতি পূরণ করে করা হোক একটি শক্তিশালী আইন।’
‘সংসদে একটি কার্যকর আইন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সুযোগ না পায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অদৃশ্য করার। এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান চায় জনগণ’, যোগ করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও জানান, ক্ষমতায় আসার পর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড বিতরণসহ নানা উদ্যোগ এর প্রমাণ। তবে তিনি সতর্ক করেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। বিশেষ করে বাজারে সিন্ডিকেট, গ্যাস ও এলপিজি সংকট, জ্বালানি তেলের সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজন কঠোর নজরদারি।
রিজভীর অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে অতীতে। যেন কোনও গোষ্ঠী বাজার বা সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে এই সরকারকে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পর্যবেক্ষণ করেন, অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী এখনও নিখোঁজ। তাদের সন্ধান বের করতে হবে এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আনতে হবে আইনের আওতায়।
‘যেসব কর্মকর্তা গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনও সমাজে আছেন। তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সত্য বের করে আনতে হবে। জনগণ জানতে চায় কীভাবে, কোথায় এবং কেন এসব গুম হয়েছে’, বলেন রিজভী। সেইসঙ্গে সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহেদুর রহমান জাহিদ প্রমুখ।

