দেশনায়ক তারেক রহমান
স্থায়ী হোক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমান নিউইয়র্কভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত এ সাময়িকী আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি দিয়েছে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সীমাহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদানকে।
একটি কঠিন সময়ে, যখন গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ, মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, তখন তারেক রহমান দৃঢ়তা, সাহস এবং অটল বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আশা জাগিয়েছেন, মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তি দিয়েছেন, কথা বলেছেন নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে।
তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু লড়াই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আবারও ফিরে এসেছে গণতন্ত্রের পথে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা আজ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত। স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, যেদিন ফিরেছেন সেদিনই তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্লান।’
একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমন্বিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাসের কম সময়ের মধ্যেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে চমৎকারভাবে অগ্রসর হয়েছে।
টাইমের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনো বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
টাইম ম্যাগাজিন থেকে পাওয়া এই সম্মান আমাদের সবার। এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের, যারা বিশ্বাস করে গণতন্ত্র অপরাজিত, জনতার শক্তি কখনও হার মানে না। আজকের বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়, আলহামদুলিল্লাহ।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে অর্জিত ভোটের অধিকার। আর একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচন পূর্ব প্রতিটা অঙ্গীকার সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করার অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রধানতম অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড পাইলটিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা, দেশের ইমাম মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নগদ অনুদান দিয়ে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলার মতো কঠিন যজ্ঞে অবিচল থেকে দেশের অর্থনীতির গতি রেখে প্রতি খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হলেও বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত তেলের দাম বৃদ্ধি না করে এ ক্ষেত্রে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তার রাষ্ট্র পরিচালনায় সব উন্নয়ন পরিকল্পনা সফল হোক এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি স্থায়ী হোক।

