আগামীর চোখ
পরের জায়গা পরের জমি...

বরাবর
আইজিপি
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি এ দেশের একজন সাধারণ ভূমিমালিক। বাপ-দাদার সম্পত্তি, ব্যাংকের ঋণ, জীবনের সঞ্চয় আর কয়েক যুগের মামলা-মোকদ্দমা পেরিয়ে একখণ্ড জমির মালিকানা অর্জন করেছি। এতদিন জানতাম জমির দলিল থাকলে জমি আমার, খাজনা দিলে সরকার খুশি, আর ভাড়া দিলে ভাড়াটিয়া খুশি। কিন্তু হাজারীবাগের এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের ঘটনা দেখে আমার এতদিনের ধারণা আমূল বদলে গেছে।
এখন শুনছি জমির মালিক একজন, চুক্তি করেছেন আরেকজনের সঙ্গে, ভাড়া পাচ্ছেন তৃতীয়জন—অন্তত সন্ত্রাসীদের দাবি তাই। শতাধিক লোক এসে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে, দলিল-দস্তাবেজের চেয়ে হেলমেট-মুখোশের ক্ষমতা বেশি। সিসিটিভি খুলে নেওয়া হয়েছে, ল্যাপটপ লুট হয়েছে, গুদাম ভাঙচুর হয়েছে। প্রতিদিন চারশ গাড়ি চালানো প্রতিষ্ঠানটির চাকা বন্ধ। আহা, কী চমৎকার ভূমি ব্যবস্থাপনা! এখানে জমির মালিকানা বদলাতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দরকার নেই, দরকার শুধু কিছু লোক, কয়েকটি হেলমেট আর একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম।
সম্ভব হলে ভূমি অফিসে একটি ‘সন্ত্রাসী মালিকানা যাচাই ডেস্ক’ খুলুন
মহোদয়, আমি এখন ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি। আমার বাড়ির ভাড়াটিয়ারা আগামী মাস থেকে কাকে ভাড়া দেবেন, তা নিয়ে আমি নিজেই অনিশ্চিত। আমি কি তাদের রসিদ দেব, নাকি ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে
রসিদ নেব? আর ক্যাশ নেবেন যে ইমন ভাই, সেটা বুঝতে পারছি।
ছোটবেলায় একটা গান শুনেছিলাম— ‘পরের জায়গা পরের জমি/ঘর বানাইয়া আমি রই/আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’ এখন বুঝতে পারছি, গানটির মধ্যে গভীর আইনি দর্শন ছিল। জমি আমার হতে পারে, কিন্তু ভাড়া তোলার অধিকার অন্য কারও— এটাই বুঝি নতুন অর্থনীতির নতুন বন্দোবস্ত!
আপনার কাছে আমার বিনীত আবেদন, ভূমিমালিকদের জন্য একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করুন।
তাতে লিখে দিন, জমির দলিলের পাশাপাশি কোন কোন সন্ত্রাসীর অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে, ভাড়া দেওয়ার আগে কার কার সম্মতি নিতে হবে এবং বাড়ি নির্মাণের আগে সম্ভাব্য চাঁদার হার কত। সম্ভব হলে ভূমি অফিসে একটি ‘সন্ত্রাসী মালিকানা যাচাই ডেস্ক’ খুলুন। এতে অন্তত আমরা আগেই জেনে যাব, জমি কিনছি, নাকি ভবিষ্যতের চাঁদার কিস্তি কিনছি।
ইতি
এক আতঙ্কিত ভূমিমালিক



