আগামীর চোখ
আশার আগুনে রান্না

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের বদৌলতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আমরা গ্যাসহীন জীবনযাপন করছি, অর্থাৎ চুলায় গ্যাস নেই। আপনার বাসায় চুলা জ্বলছে? ওহ! ভুলেই গেছি, ‘ভিআইপি লাইন’ বলে তো একটা কথা আছে। আমার ঘর থেকে মন্ত্রিপাড়া অনেক দূরে। দুষ্টু লোকেরা বলে, মন্ত্রীরাও জনগণ থেকে দূরে। ফলে আপনার কাছ থেকে ‘সাইডলাইন’ নেওয়ার আবদার করারও সুযোগ নেই। গণমাধ্যম মারফত জানতে পারলাম, আজ-কালের মধ্যে প্রতিদিন ৩০-৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ-ছয় দিন লাগবে। ততদিন কি আমরা ‘আশার আগুনে’ রান্না চালিয়ে নেব?
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট আর সরবরাহ ২৬৫ কোটি। অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতি নিয়ে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম। গ্যাস বিপর্যয়ের এক সপ্তাহে তা নেমে এলো ২১০ কোটিতে। তারপর শুরু হলো ধৈর্যের পরীক্ষা। কেউ কেউ তো মাটির চুলায় রান্না করতে শুরু করলেন! আমার সে পরিস্থিতি নেই। ফলে চুলায় গ্যাস না থাকলেও খাবারের অনিয়মে পেটে ঠিকই গ্যাস জ্বমেছে।
শুধু কি রান্নাঘর? শিল্পকারখানাতেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। সময়মতো পণ্য ডেলিভারি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে সিএনজিচািলত অটোরিকশার মাইলব্যাপী লাইন দেখলে মনে হয়– কোনো উৎসবের প্রস্তুতি চলছে! গ্যাসের সংকটে বিদ্যুতের উৎপাদনও কমে গেছে, যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। আসলে যেকোনো জ্বালানি সংকটের শেষ আঘাতটি আমজনতার পেটেই লাগে। পেট বেচারা কত দিকের আঘাত সামলাবে! তারও তো সহ্যক্ষমতার শেষ আছে!
তাই আশার আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার আগেই গ্যাস সংকটের সমাধানের কার্যকর রাস্তা খুঁজুন। এভাবে আশার আগুনের ওপর নির্ভর করতে থাকলে আশার আগুনেরও সংকট দেখা দিতে পারে। গ্যাসের রিজার্ভ বাড়ানো যায়, কিন্তু আশার আগুনের রিজার্ভ বাড়ানো
যায় না। আমদানি করার তো সুযোগই নেই। ‘আশার আগুনের জাহাজ’ কাল বন্দরে ভিড়ছে বলে জনগণকে আশা দেওয়ারও রাস্তা নেই। এবার রান্নাঘরের চুলাটা জ্বলুক। প্রকৃত গ্যাসের আগুনেই দুমুঠো ফুটিয়ে খেয়ে বাঁচতে চাই।
ইতি
এক নাগরিক




