আগামীর চোখ
স্বনির্ভরতার রাজনৈতিক মডেল!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শ্রদ্ধেয়
বড় ভাই,
আসসালামু আলাইকুম। পত্রিকার খবরটা দেখলাম। মোহাম্মদপুরে আমাদের এক ওয়ার্ডের যুগ্ম সম্পাদক নাকি নিষিদ্ধ দলের চার নেতাকে ১০ ঘণ্টা আটকাইয়া রাখিয়া নির্যাতনের পর ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায় করিয়াছেন। অতঃপর আহত অবস্থায় পুলিশের হাতে সোপর্দ করিয়াছেন। খবরটা পড়িয়া আমার বুক গর্বে ভরিয়া উঠিল, যদিও সাংবাদিকরা এমনভাবে সংবাদটি পরিবেশন করিয়াছেন, যেন আমাদের ভাইটি অপরাধজগতের এক ক্ষুদ্র সংস্করণ।
বড় ভাই, আপনি তো জানেন, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কত! চাকরি নাই, ব্যবসার পুঁজি নাই, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখিয়া লাখ লাখ যুবকের দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছু উৎপাদিত হয় না। এই অবস্থায় দলের একজন কর্মী যদি নিজের মেধা, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগাইয়া বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন, তাহাতে রাষ্ট্রের আপত্তি থাকার কথা কেন? চারজনকে ধরিয়া ১০ ঘণ্টায় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা! হিসাব করিলে ঘণ্টাপ্রতি আয় দাঁড়ায় চমৎকার। অথচ মিডিয়া ইহাকে বলিতেছে নির্যাতন, টাকা আদায়, চাঁদাবাজি! এই দেশে উদ্যোক্তা হওয়ারও কি আর কোনো স্বাধীনতা রহিল না?
সরকারকে চাকরি সৃষ্টি করিতে হইবে না, বেতন দিতে হইবে না, পেনশন দিতে হইবে না
আমার প্রস্তাব, বিষয়টিকে ব্যক্তিগত অপরাধের খোপে না ফেলিয়া বেসরকারি রাজনৈতিক আইনশৃঙ্খলা সহায়তা উদ্যোগ হিসাবে বিবেচনা করা হউক। পুলিশের কত কাজ! নিষিদ্ধ দলের কর্মী খুঁজিতে হইবে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করিতে হইবে, আসামি ধরিতে হইবে, জনবল ও অর্থ ব্যয় করিতে হইবে। অথচ দলের নিবেদিত কর্মীরা বিনা বেতনে সেই কাজ করিয়া দিতে প্রস্তুত। সন্দেহভাজন ধরিবেন তাহারা, জিজ্ঞাসাবাদ করিবেন তাহারা, নিজেদের খরচ নিজেরাই তুলিবেন; শেষে পুলিশ শুধু গাড়ি পাঠাইয়া আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখাইবে। ইহাতে পুলিশের শ্রম বাঁচিবে, সরকারের বাজেট বাঁচিবে, আর বেকার কর্মীদেরও ঘরে বসিয়া থাকার দুর্ভাগ্য ঘুচিবে।
সরকারকে চাকরি সৃষ্টি করিতে হইবে না, বেতন দিতে হইবে না, পেনশন দিতে হইবে না। কর্মীরা নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই করিবেন। যাহাদের ধরিবেন, তাহাদের কাছ থেকেই প্রকল্পের পরিচালন ব্যয় আদায় করিবেন। একেই বলে স্বনির্ভরতা! চাইলে এই মডেল সারা দেশে চালু করা যায়।
একটা অনুরোধ, বড় ভাই। সাংবাদিকদের বুঝাইয়া বলিবেন, তাহারা যেন এই উদ্যোগের নাম ভুল করিয়া চাঁদাবাজি না লেখেন। আর পুলিশের বড় কর্তাদেরও বলিবেন, অভিযোগ পাইলেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা না বলিয়া আগে উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানের স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করিতে। অবশ্য আইনকানুনের বিষয়টা মাথায় রাখিতে হইবে— কর্মসংস্থান আর আইন হাতে তুলিয়া নেওয়া এক জিনিস নহে। এই সামান্য পার্থক্যটুকু বুঝাইয়া দেওয়া দরকার।
সবশেষে, বড় ভাই, আমার নিজের বেকারত্বের কথাটাও একটু বিবেচনা করিবেন।
ইতি
আপনারই দলের একজন কর্মসংস্থানপ্রত্যাশী কর্মী



