আগামীর সময়
দখলে ভাই ভাই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
আপনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। রাজনীতির জ্ঞানে আমার মতো সাধারণ মানুষ আপনার ধারেকাছেও নেই। একটি বিষয়ে আপনি একমত হবেন কি না, জানি না। বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আসে এবং যারা বিরোধী দলে থাকে— পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তাদের নীতি আলাদা হলেও পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ ব্যবসা ও দখল-বাণিজ্যে তাদের নীতি অভিন্ন! এমন উদাহরণ আপনার সামনেই রয়েছে। পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম ওরফে জসিম দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আকবারশাহ এলাকার পাহাড় দখল-বেদখলে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে পাহাড় দখলের বাণিজ্য এগিয়ে নিচ্ছেন থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ইলিয়াছ খান, মোহাম্মদ রাসেলসহ অন্যরা। নগরের অন্য সরকারি-বেসরকারি পাহাড়গুলোতেও আপনার দলের থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের আধিপত্য রয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে নগরের ২৬টি পাহাড়ে রয়েছে প্রায় আট হাজার পরিবারের অবৈধ বসতি। তবে সরকারি অন্য সংস্থা এবং বেসরকারি হিসাবে পরিবারের সংখ্যা লাখের কাছাকাছি। তা হলে ভাবুন, পাহাড়ের ব্যবসা জমবে না কেন! এরা এমনই যে, তাদের লাভ-লোকসানের হিসাবে পরিবেশ তো কোন ছার, মানুষের প্রাণেরও পরোয়া নেই।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তাদের নীতি আলাদা হলেও পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ ব্যবসা ও দখল-বাণিজ্যে তাদের নীতি অভিন্ন
সামনে ঘোর বর্ষার দিন। আপনার নগরীতে পাহাড় ধসে মানুষের মৃত্যুর ইতিহাস অনেক পুরনো। ২০০৭ সালের ১১ জুনের ঘটনা মনে আছে নিশ্চয়ই? সেদিন ভয়াবহ পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছিল ১২৭ জনের। সেবারই প্রথম পাহাড়ের অবৈধ বসতির কথা সামনে আসে। এরপরও অনেকবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। কোনো সরকারই নগরীর এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেনি। এখন নগরীর ব্যাটন আপনার হাতে। যেদিকে ঘোরাবেন সেদিকেই ছুটবে নগরী। তাই নিজ দলের নেতাকর্মীদের ব্যাটন ঘুরিয়ে পাহাড় থেকে নামিয়ে দেওয়ার এখনই সময়। যদিও এতে রাজনৈতিকভাবে আপনি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। মানে আপনার মিছিলে, ‘মেয়র ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ স্লোগান দেওয়ার লোকেরও টান পড়তে পারে। চায়ের দোকান থেকে উড়ে এসে সালাম দেওয়ার লোকও হয়তো কমবে।
যারা পাহাড় দখলের সঙ্গে যুক্ত, আমার মনে হয় চুনোপুঁটির পেছনে নিশ্চয়ই রাঘববোয়ালগোছের কেউ জড়িয়ে থাকতে পারেন। একটু যদি সাহস করে জাল গুটিয়ে দেখতেন, তাহলে তাদের চাঁদমুখখানা আমাদের সামনে চলে আসত। চুনোপুঁটিদের সঙ্গে রাঘববোয়ালদেরও চিনে রাখা দরকার। বলা তো যায় না, পাহাড়ের পর আমাদের ভিটেও যদি গিলতে চায় তারা!
ইতি
এক নগরবাসী


